বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আব্দুল আজিজ এর মৃত্যুতে জয় বাংলা ব্রিগেড এর শোক
মনোহরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মনোহরগঞ্জ থানা,কুমিল্লা নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধাএ্যাডঃ আব্দুল আজিজ ০৪-০১-২০২৬ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন আমিন।তার মৃত্যুতে জয় বাংলা ব্রিগেড দুঃখ প্রকাশ এবং বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।
আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
★বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম কে পিটিয়েছিলেন পুলিশ দিয়ে। এর কারন জাহানারা ইমাম গোলাম আজম ও নিজামীদের বিচার চেয়েছিলেন। পরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আসামী করেন জাহানারা ইমাম’কে।সেই মামলা কাঁধে নিয়েই তিনি মৃত্যুবরন করেন।
কিন্তু খালেদা জিয়া এরপরও আপনাদের কাছে ইননোসেন্ট!কারন রাজাকার শিরোমনি’দের পিতাদের রক্ষা করতে চেয়েছিলেন ।অথচ এই কাজ দেশরত্ন শেখ হাসিনা করলে সে হয়ে যেতো ফ্যাসিস্ট।
★ ১৯৯৫ সালে সারের দাবিতে আন্দোলন করায় খালেদা জিয়ার পুলিশের গুলিতে ১৮ জন কৃষক মারা যায়। একই বছর সিলেট থেকে ফেরার পথে শেখ হাসিনার ট্রেনযাত্রায় বৃষ্টির মতো গুলি করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু আপনারা বলবেন এখানে খালেদা জিয়ার কোনো দায় নেই! শেখ হাসিনা এই কাজ করলে আপনাদের কাছে হয়ে যেতো সে জালিম।
★১৯৯৬ সালের ১২ ই ফেব্রুয়ারী পাতানো ইলেকশনের দিন আওয়ামিলীগ এর নেতা-কর্মী ৩০ জনের উপরে হত্যা হয়। এবং ৩ মাসের লাগাতর হরতালে ২০০ জনের কাছাকাছি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নিহত হয়। এই ইলেকশনে বঙ্গবন্ধুর খুনী রশিদ কে পাতানো বিরোধী দলীয় প্রধান বানানো হয়,এরপরও তিনিই ভালো! কারন শেখ মুজিবের খুনীরা বিএনপি সমর্থক ও রাজাকারদের কাছে হিরো।
★শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ছিল ঢাকা আন্তজার্তিক বিমানবন্দর।১৯৮০ সালে বিএনপি উক্ত বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন করে নাম দেয় জিয়া আন্তজার্তিক বিমানবন্দর এবং আওয়ামীলীগ তা মেনেও নেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন বিমান বন্দরের নামটিতে হাত দেয়নি। কিন্তু শেখ হাসিনা যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের নামকরন করেন এম হান্নানের নামে তখন আর সহ্য করতে পারেনি খালেদা। তিনি এই নামটি পরিবর্তন করে শাহ আমানত রাখেন। কারন হান্নান সাহেব স্বাধীনতার ঘোষনার প্রথম পাঠক। যদি মানুষ সত্যটা জেনে যায় তাই খালেদার নাম পরিবর্তনের খেলা শুরু হয়।
এরপর শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাম রাখেন। কিন্তু শেখ হাসিনা প্রতিহিংসাপরায়ন বাট খালেদা জিয়া ইনোসেন্ট!! শেখ হাসিনা খারাপ কারণ তিনি কেন একজন বীরউত্তম এর নাম পরিবর্তন করলেন। এদিকে বীরউত্তম উপসেনাপ্রধান সহ ৪ বছরে ৩ বার জিয়াউর রহমান কে প্রমোশন দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপরও শেখ মুজিবুর রহমান এর উপর রাগের শেষ নাই।
★ যাইহোক এইবার আসি বাড়ির প্রসঙ্গে। খালেদা জিয়াকে মঈনুল রোডের বাড়িটি দিয়েছিল এরশাদ। খালেদা জিয়া সেটি সাদরে গ্রহন করেন। অথচ বিএনপি দাবি করে এরশাদ জিয়াউর রহমান এর খুনে জড়িত এবং শেখ হাসিনা নাকি এরশাদের সাথে জোট করেছিলেন। হাসিনা মুনাফেক ব্লা ব্লা ব্লা।
অথচ, শেখ হাসিনা কোনদিনও সেই বাড়ি নিয়ে এলার্জি দেখাননি। কথাও বলেন নি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নামে বাড়ি বরাদ্দ করা হয়।কারন তাদের ব্যাক্তিগত কোন সম্পত্তি ছিল না।১৯৯৪ সালে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার’কে জাদুঘর ঘোষনা করা হয় এবং এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দিয়ে দেয়া হয় ট্রাস্টের নামে। অর্থাৎ এটি জনগনের সম্পদ হিসাবে ঘোষনা করেন শেখ হাসিনা।
কিন্তু খালেদা জিয়া ২০০১ সালে এসেই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা’কে দেয়া দুটি বাড়ির বরাদ্দ বাতিল করে দেন। এবং শেখ হাসিনাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেন। অথচ খালেদা গনভবনে একদিনের জন্যও থাকেননি। কিন্তু এরপরও খালেদা জিয়া ইনোসেন্ট। সব দোষ হাসিনার তিনি কেন রিভেঞ্জ নিলেন।
★১৯৯০ দশক থেকে খালেদা জিয়া ১৫ ই আগস্ট জন্মদিন পালন শুরু করেন ঘোষনা দিয়ে। অথচ ওনার জন্ম ১৯৪৫ সালে ৫ সেপ্টেম্বর। এটা ওনার বাবা ইস্কান্দার মির্জাই বলেছেন বিচিত্রা’তে সাক্ষাৎকারে যখন খালেদা গৃহবধূ থেকে রাজনীতি’তে আসেন । এই সাক্ষাৎকার এর হার্ডকপি এখনও আছে। সাক্ষাৎকারটি সংযুক্ত করা হলো।
কিন্তু আওয়ামিলীগ বা শেখ হাসিনা কখনোই জিয়ার মৃত্যুদিনে উৎসব তো দূরে থাক সামান্য সেলিব্রেটও করেনি। তাও হাসিনা খারাপ কারন তিনি একটি ভূয়া জন্মদিন পয়দা করতে পারেননি।
★কবর প্রসঙ্গঃ শেখ হাসিনার সরাসরি কাটছাট বক্তব্য শুনে বিএনপি সমর্থকদের ক্ষোভ ও রাগ আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বাস্তবতা হলো জিয়াউর রহমান এর ডেডবডি পাওয়া যায়নি। কারন ব্রাশফায়ারের ফলে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। পরবর্তীতে হালদা নদীতে জিয়াউর রহমান সহ বাকিদের লাশ ফেলা হয়। সেখান থেকেই কিছু ছাইভষ্ম উদ্ধার করে ঢাকায় আনা হয়। এবং লাশ কাউকে দেখাতে পারেনি।
জিয়াউর রহমান এর লাশ নেই কবরে এই বিতর্ক প্রথম তুলেন বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। যাকে বিএনপি রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিল ২০০১ সালে। তিনি কবর জিয়ারত করতে অস্বীকৃতি জানান। যার ফলশ্রুতিতে তাকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। এবং হামলা করা হয় তার উপর। তার গুলশানে বাড়িতেও আগুন দেয়া হয়।
★গ্রেনেড হামলাঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা। শাহবাগ ও রমনা থানা মামলা নেয়নি। ঘটনাস্থলে এম্বুলেন্স যায়নি। আইভী রহমান, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের,হাসান মাহমুদ সহ সকল আহতদের রিক্সা ও ঠেলাগাড়িতে করে হাসপাতালে যেতে হয়। সরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা দেয়নি। তারপর জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে এই হামলা অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। শেখ হাসিনা’কে তখন দেখতে পর্যন্ত যায়নি খালেদা। কিন্তু দিনশেষে সব দোষ শেখ হাসিনার!সে নাকি ব্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছে। বলেছিলেন,”খালেদা জিয়া’ই”। খন্দকার মোশাররফ বলেছিলেন “আরে এগুলো কোনো ঘটনাই না”। এখনো সেই ক্লিপ পাবেন ইউটিউবে।
কিন্তু না! শেখ হাসিনা খারাপ,কারন তিনি গ্রেনেড মারেননি,বিরোধী দলকে বড় বড় সমাবেশ করতে দিয়েছেন,শুধুমাত্র খালেদা জিয়াকে জেলে নিলেন কেন তার তো উচিত ছিল খালেদাকে তখন ওপেন রাজপথে ফায়ার স্কোয়াড দিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করা। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসের প্রতিপক্ষের সমাবেশে গ্রেনেড মারার নজির না থাকলেও প্রতিপক্ষকে জেল খাটানোর নজীর আছে হাজার হাজার।
ইমরান খান কে দেখেন পাকিস্তানে। আরো অনেক উদাহরণ আছে। শেখ মুজিব তো ৫৫ বছরের প্রায় সাড়ে বারো বছর জেল খেটেছিলেন। ম্যান্ডেলা ছিলেন সম্ভবত ৩৯ বছর। আর ২ বছর কারাগারে থাকায় সব দোষ এখন শেখ হাসিনা’র। তবে এই মামলাটিও করেছিলো তৎকালীন ফখরুদ্দিন সরকার,শেখ হাসিনার সরকার করেননি।
★২০০৬ সালে বিদ্যুৎ না পেয়ে ক্ষুদ্ধ জনতা আন্দোলন করলে খালেদা জিয়ার পুলিশ ও বিজিবি মিলে ৩১ জন কে গুলি করে হত্যা করেছিল।কিন্তু এরপরও ওনার ব্যর্থতা নাই। শেখ হাসিনা করলে তিনি হয়ে যেতো ফেরাউন/ ফ্যাসিবাদ।
★শেখ হাসিনা বলেছিলেন-আমি ভারতকে যা দিয়েছি তারা তা সারাজীবন মনে রাখবে।সীমান্তে প্রতিদিনের গুলি ও বোমাবাজি থেকে তাদের মুক্তি দিয়েছি।
এটা তো সত্য উলফার প্রধানকে হাসিনা বন্দী বিনিময় চুক্তিতে হ্যান্ডওভার করেছিল শুধু আঞ্চলিক শান্তির জন্য। বিনিময়ে ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গাও আদায় করেছিলেন ভারত থেকে। তারেক জিয়া সীমানা বাড়ানোর কথা বললেও বাস্তবে সীমানা বাড়িয়েছেন শেখ হাসিনা (গিভ এন্ড টেক ওয়েতে)।
কিন্তু আমাদের দেশের দালাল মিডিয়া শুধু কাট করে “আমি যা ভারতকে দিয়েছি সারাজীবন তা মনে রাখবে” এটিই প্রচার করে এবং বিরোধীরাও এখন এ টুকুই প্রচার করে।
আর খালেদা জিয়া ২০০২ সালে ভারতকে গ্যাস দিতে চেয়েছিলেন।যার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে আওয়ামিলীগ ও বামপন্থীরা। পরবর্তীতে গ্যাস দেয়া ঠেকিয়ে দেন।
কিন্তু এরপরও খালেদা জিয়া ভারতের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদবিরোধী আর শেখ হাসিনা দালাল।
★যেই রেন্টুর বই নিয়ে বিএনপি সমর্থকরা লাফায়। সেই রেন্টু বিএনপির আমলেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।এই রেন্টুকে হত্যার ছক তৈরী করেছিল গোয়েন্দারা কারন সে হাওয়া ভবন নিয়েও লিখেছিলেন বলে।
★১৯১৮ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মীদের হাতে সূর্বনচরে গৃহবধূ ধর্ষনের ঘটনায় শেখ হাসিনার সরকার ঐ আসামীদের সাজা দিয়েছিলেন।তারা এখনো দেশেই আছে। এদিকে বিএনপি’র আমলে বহুল আলোচিত পূর্নিমা গনধর্ষন মামলার আসামীরা বিচার তো দুরের কথা বরং তারা বিএনপি’র সহযোগিতায় দেশ ছেড়েছিলেন।
★খালেদা জিয়া গোপালগঞ্জের নাম বদলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কখনোই বলেন নাই আমি ফেনী, বগুড়া ও দিনাজপুরের নাম বদলে দিব। যেহেতু ওটা খালেদার এলাকা। তাও খালেদা জিয়া ইননোসেন্ট।
★পদ্মা সেতু নিয়ে ম্যাডাম জিয়া কি করেছেন তাও সবাই দেখেছেন। কর্মীদের ও মানুষকে উঠতে বারন করেছিলেন বলেছিলেন জোড়াতালি দিয়ে বানানো। আর এখন বিএনপি সমর্থকরাই বলে হাসিনা তার বাপের টাকায় উন্নয়ন করেননি।
অথচ জনগণের টাকায় জনগণের উপকার করতে গিয়ে শেখ হাসিনা’কে খেতে হলো গালি ও নানা ঘাত-প্রতিঘাত। বলি দিতে হলো সৈয়দ আবুল হোসেন এর মতো এক জননন্দিত নেতাকে।
★বিনামূল্যে পেয়েও উনি সাবমেরিন কিনেন নাই। অথচ ভর্তুকি দিয়ে শেখ হাসিনা সাবমেরিন কিনেই হয়ে গেলো খারাপ। উনি বললেন এই সাবমেরিন ডুবে যাবে। অথচ এটি যে পানির নিচে থাকে সেটা তিনি জানেন’ই না।
★খালেদা জিয়া ইন্টারনেট আনেননি কারণ তথ্য পাচার হয়ে যাবে দেশের। অথচ ইন্টারনেট এর সর্বোচ্চ সুবিধা টা ব্যবহার করছে এখন তার কর্মীরা।
★শুধু তার মন্ত্রী মোর্শেদ খান কে দিয়ে একটি সিম বাজারে রেখেছিলেন যার নাম সিটিসেল। আর শেখ হাসিনা রবি, গ্রামীন সহ সবাইকে এনে মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দিলেন মোবাইল। তাও হাসিনা খারাপ আর খালেদা হইলো সফল!
★শুধুমাত্র ব্র্যান্ডের নাম টিউলিপ দেখে তিনি নেদারল্যান্ডস থেকে কম্পিউটার চুক্তি করে নাই। অথচ নেদারল্যান্ডস যে ফুলের জন্য বিখ্যাত তিনি তা জানাতেনই না!
আর শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে তিরস্কার ও হাসি তামাশা করলো তারই কর্মীরা। কিন্তু সুযোগ সুবিধা ঠিকই সবাই পাচ্ছেন।এ জন্যই শেখ হাসিনা খারাপ!
★রাজনৈতিক নেত্রীর গাড়ি বহরে হামলা শুরু হয় খালেদার আমলেই। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া সহ একাধিক জায়গায় শেখ হাসিনার গাড়ী বহরে হামলা হয়।
শেখ হাসিনা এর কিচ্ছুটি করেন নাই,তাই শেখ হাসিনা খারাপ!
★১৯৮৮ সালে এরশাদ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছিলেন। খালেদা জিয়া বলেছিলেন এটির প্রয়োজন পড়েনা। এটার মাধ্যমে জাতিকে বিভাজিত করা হচ্ছে।
যদিও আওয়ামিলীগ ও জামায়াতও তখন এর বিরোধীতা করেছিলো।অথচ জামায়াত ও কওমীদের কাছে শেখ হাসিনা প্রগতিশীল নারী না,তাই খালেদার বেলায় নারী নেতৃত্ব হারাম না। শেখ হাসিনা নাকি ইসলাম বিরোধী তার বেলায় নারী নেতৃত্ব হারাম। কিন্তু ৫৬০টি মডেল মসজিদ, মাদ্রাসা পড়ুয়াদের কামিলকে এমএ’র মান দিল,কওমীদের সকল সুযোগ সুবিধা দিল সেগুলো আড়াল করে যান এবং শেখ হাসিনা ভালো না,এবং শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বই ছিল হারাম!
★দিনশেষে ধ্রুব সত্য হলো বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে শেখ হাসিনাই একমাত্র সরকার প্রধান,যিনি সেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়েছিল ২০০১ সালে কেয়ারটেকার এর কাছে কোন ধরনের বাঁধা বিপত্তি ছাড়া।
আপনারা যারা আপোষহীন নেত্রী বলছেন এই খালেদা জিয়াকে,সেই খালেদা জিয়ার ইতিহাসে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়ার নজির আছে? বরং সাধারণ জনগনকে ২ বার রক্ত দিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হয়েছিল ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে।
যার ফলশ্রুতিতে শেখ হাসিনাও ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন পরবর্তীতে। কারন আপনি বিরাজনীতিকরন না করলে আমি কেন করবো? শুধু তাই নয় খালেদা জিয়ার উপর এই দেশের ভুমি রক্ষার ভরসা নেই, নেই দেশের জনগণের নিরাপত্তা।তো শেখ হাসিনা যদি মনস্টার হয় সেই মনস্টার হওয়ার জন্য ৭০% দায়ী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকার বিরোধীরা।
কিন্তু এতকিছুর পরেও বিএনপি সমর্থকদের কপাল ভালো তখন ফেসবুক ছিলনা।
অর্থাৎ দিনশেষে বিষয়টা হলো বিএনপি বা খালেদা জিয়া করলে ফ্লার্টিং আর শেখ হাসিনা ও লীগ করলে সেটা হ্যারাজমেন্ট ও পৈশাচিকতা। মানে যারে দেখতে পারিনা তার চলন বাঁকা। বিচার মানে তালগাছ টা আমার।
আসলেই খালেদা জিয়া ভাগ্যবান। তিনি পাচমিশালী এক সাপোর্টারস পেয়েছেন। যারা ওনাকে অন্ধের মতো পূজা করেন। ওনার কোনো দোষ বা ভূল দেখে না।
খালেদার মৃত্যুর পর এতকিছু বলতাম না বা লিখতাম না।কিন্তু বাধ্য হলাম তার ভক্তকূলের একচেটিয়া আবেগ ও ইননোসেন্ট বানানো দেখে। কারন আমরা তো আর তার ফ্যানবেইজের মতো ইতর না যে একজন নারী নেত্রী’কে “পতিতা, সুগার মাম্মি,ডাইনী,রাক্ষুসী,দেশোদ্রোহী বলে গালি দিবো রাগ থেকে। আমরা নোংরামী করলে ১৫ বছরে অনলাইনে অনেক কিছুই করতে পারতাম। বাট এসব নোংরামী আমাদের আইডোলজি’তে নাই।।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে আসলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক জানাতে। তিনি আসলেন শোক জানালেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করে তাদের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা পৌছে দিলেন। নিজ্বস্ব বিমানে আসলেন, আবার চলেও গেলেন। বাংলাদেশের ক্ষমতায় দখলদার ইউনূস এর গালে কসিয়ে চপেটাঘাত করে গেলেন। তিনি কি বুজাইতে ছাইলেন- ভারত কোন দখলদারকে তার নিকটতম প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রের দায়ীত্বশীল মনে করেন না। পারছেন মহাজন তাকে ঠেকাতে?তোমার অবস্থা বিশ্ববাসী সব জেনে গেছে। তুমি ক্ষমতার লোভে জঙ্গিদের পিতা হয়ে বসে আছো। পৃথিবী জঙ্গিবাদের হোতাকে তোয়াজ করার সময় রাখেনা।
বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য নতুন বছর নিয়ে আসুক অনাবিল সম্প্রীতি, সুখ ও সমৃদ্ধি। বিগত দিনের দুঃখ-গ্লানি মুছে, ভুল-ভ্রান্তি দূর করে বছরটি হয়ে উঠুক সকলের জন্য স্মরণীয়। এই দেশটি সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশা ও জাতিসত্তার মানুষের হয়ে উঠুক।
প্রিয় দেশবাসী, যে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে মর্যাদার আসনে আসীন করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে গেছে, সেই বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ও মুক্তির সংগ্রামী ইতিহাসকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। অতীতে যখনই এমন ক্রান্তিকাল এসেছে তখনই এই জাতি যূথবদ্ধ হয়েছে, শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা ও জাতিগত পরিচয় ভুলে সামষ্টিক স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ চলমান এই দুঃসময়কে আর দীর্ঘতর হতে দিবে না। নতুন বছরেই আমরা তার চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখতে পাবো ইনশাআল্লাহ।
প্রাণপ্রিয় দেশবাসী, ২০২৬ সালে আমাদের জাতীয় জীবনে শান্তি ফিরে আসুক; নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির মধ্যে প্রতিটি নাগরিকের জীবন উদ্ভাসিত হোক, এই কামনা করে আপনাদের সকলের প্রতি জয় বাংলা ব্রিগেড এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানাচ্ছি। শুভ নববর্ষ ২০২৬!
বিরোধীদলগুলো বছরের পর বছর ধরে ভাঙা রেকর্ডের মতো বলে যাচ্ছে,আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছে!
অথচ জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের পর টানা ১৬ মাস পার হলেও তথাকথিত দখলদার ইউনূস কিংবা তাঁর অনুসারীরা আজও দেখাতে পারেননি।
কি বিক্রি হয়েছে, কতটুকু বিক্রি হয়েছে কিংবা তার কোন লিখিত চুক্তিপত্র।
আসিফ নজরুলের পক্ষ থেকে এক সময় “২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করে” বলে যে দাবি তোলা হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর গত ১৬ মাস ধরে সেই তালিকা চাওয়া হলেও অবৈধ ইউনূস সরকার তা দেখাতে পারেনি।
২০১২ ও ২০১৪ সালে ভারত ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ। এসব মামলায় নেতৃত্ব দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা, ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের স্বীকৃতি পায়। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমির ভিত্তি গড়ে ওঠে।
২০১৫ সালের বাংলাদেশ–ভারত ছিটমহল বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ১১১টি ছিটমহল,মোট ১৭,১৬০ একর জমি বাংলাদেশের দখলে আসে। বিপরীতে ভারত পায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টি ছিটমহল মোট ৭,১১০ একর জমি।
যখন বিশ্বের নানা প্রান্তে এক ইঞ্চি জমির জন্যও রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে, শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বেশি জমি আদায় করে নেওয়াকে কি ‘দেশ বিক্রি’ বলা যায়, নাকি এটিই সফল রাষ্ট্রীয় কূটনীতির উদাহরণ?
ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আমদানির ফলে পরিবহন ব্যয় ও অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মাধ্যমে উত্তর বঙ্গের ১৬টি জেলায় সেচ ও কৃষিকাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।
অন্যদিকে, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির ফলে আগে যেখানে পণ্য পরিবহনে সিঙ্গাপুর ঘুরে আসতে হতো, এখন তা সরাসরি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে ভারতের বন্দরে যাচ্ছে। এতে সময় ও খরচ কমেছে, পাশাপাশি ট্রানজিট আয়ের সুবিধাও পাচ্ছে বাংলাদেশ।
কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় রহিমপুর খাল দিয়ে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট অঞ্চলের প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমি শুষ্ক মৌসুমেও চাষের আওতায় এসেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতকে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রশাসনিক ফি ও পোর্ট চার্জ আদায় করছে। এর ফলে বিশেষ করে মোংলা বন্দরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২২ সালের আগস্টে ভারতীয় কাস্টমস বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে দিল্লি ও কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিটের অনুমতি দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের মার্চে প্রথমবার বেনাপোল–পেট্রাপোল রুট হয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক দিল্লি বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্পেনে রপ্তানি হয়।
তবে বর্তমান দখলদার ইউনূসের আমলে এই সুবিধা বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে বছরে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত খরচ ও লোকসান হচ্ছে।
সমুদ্রসীমা, ছিটমহল, বন্দর, জ্বালানি ও ট্রান্সশিপমেন্ট—ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের এসব অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দেশ যদি সত্যিই ‘বিক্রি’ হয়ে যেত, তবে কি এসব অর্জন সম্ভব হতো? নাকি এসব অর্জনকেই দেশ বিক্রি বলে?
১৬ মাস অবৈধ ইউনূস সরকার গলার রগ ফুলিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা ছাড়া আর কিছুই দেখাতে পারেনি। কোথায় সেই আওয়ামী লীগের ‘দেশ বিক্রির গোপন চুক্তি’? কোথায় সেই গোলামির তালিকা?
নাকি “২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করে” বলে যে মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল, সেই দাবির মতোই সব হাওয়ায় মিলিয়ে গেল?
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান অপরিসীম। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এবং বিএনপি নেতৃত্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আমি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
আমি তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য শোকাহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
আশা করছি মহান আল্লাহ তার পরিবারের সদস্যদের এবং বিএনপির সকল সদস্যদের এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবেন।
স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে দেশে ফিরে কোন নেতা যদি বলেই বসেন, “আমার কাছে পরিকল্পনা আছে,” এবং সেই বক্তব্য ঘিরে যদি অঘোষিতভাবে অজেয় নিরাপত্তা বলয় ও প্রশ্নাতীত কর্তৃত্বের আবহ তৈরি হয়—তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির লক্ষণ নয়। বরং এটি এক ধরনের শ্রেষ্ঠত্ববোধের প্রকাশ, যেখানে দল, মত ও প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তি নিজেকেই রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে হাজির করেন। এই মানসিকতা ব্যক্তিকেন্দ্রিক—গণতন্ত্রকেন্দ্রিক নয়।
গণতন্ত্রে পরিকল্পনা কোনো ব্যক্তির একক সম্পত্তি হতে পারে না। পরিকল্পনা জন্ম নেয় আলোচনা থেকে, বিতর্ক থেকে, ভিন্নমতের সংঘর্ষ থেকে। “আমার পরিকল্পনা” বলার মধ্যে একটি মৌলিক সমস্যা আছে—এতে দলীয় কাঠামো, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং কর্মীদের সম্মিলিত ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়ে। নেতা তখন পরামর্শদাতা নন, হয়ে ওঠেন নির্দেশদাতা; সহযাত্রী নন, হয়ে ওঠেন অবিকল্প কেন্দ্র।
তারেক জিয়ার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকে রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করার পর দেশে ফিরে এসে যদি তিনি নিজের ব্যক্তিগত পরিকল্পনাকেই সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—এই পরিকল্পনা কতটা দলীয় আলোচনার ফসল, আর কতটা ব্যক্তি-ভাবনার প্রতিফলন? আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত করার জায়গা আদৌ আছে কি না।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যক্তি-নির্ভরতা নতুন কিছু নয়, কিন্তু এর পরিণতি সব সময়ই ভয়াবহ হয়েছে। যখন দল দুর্বল হয় আর ব্যক্তি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন রাজনীতি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠান থেকে সরে গিয়ে আনুগত্যের খেলায় পরিণত হয়। নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা নেতা, প্রশ্নহীন বক্তব্য, আর “আমি জানি কী করতে হবে”—এই বয়ান শেষ পর্যন্ত কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে এবং দলকে পরিণত করে একটি অনুসারী গোষ্ঠীতে।
গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব মানে নিখুঁত পরিকল্পনা ঘোষণা করা নয়; বরং অসম্পূর্ণতা স্বীকার করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পথ খোঁজা। যে নেতা শুরুতেই নিজেকে সমাধানের একমাত্র উৎস হিসেবে তুলে ধরেন, তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবেই জানান দেন—এটি অংশগ্রহণের রাজনীতি নয়, এটি নির্দেশের রাজনীতি। আর সেই রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকে নামমাত্র, বাস্তবে নয়।
এক সময়ের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এখন একের পর এক সুযোগ–সুবিধা দিয়ে আইন ভঙ্গের ঘটনা জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সাধারণ নাগরিকের জন্য যে আইন কঠোর ও অমোঘ, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে কি সেই আইন শিথিল হয়ে যায়? নাকি তিনি কার্যত আইনের ঊর্ধ্বে?
দেশে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই বিষয়টি চোখে পড়ছে। টোল নির্ধারিত স্থাপনায় টোল না দেওয়া, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে দণ্ডনীয় অপরাধ—সেটি কীভাবে উপেক্ষিত থাকে? এরপর আসে আরও গুরুতর বিষয়। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে ভোটার হওয়া আইনত নিষিদ্ধ, অথচ সেই তফসিল কার্যকর থাকার মধ্যেই তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার ওপর দিনটি ছিল শনিবার, সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি। তাহলে আইন মানা হলো কীভাবে, আর কার নির্দেশে?
এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয় বরং একটি ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে—তারেক রহমানের জন্য কি আলাদা নিয়ম কার্যকর হচ্ছে? যদি তাই হয়, তবে সংবিধানে ঘোষিত “আইন সবার জন্য সমান”—এই নীতির অবস্থান কোথায়?
জনমনে আজ যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—
দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও তারেক রহমান কেন বারবার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন?
আইন ভঙ্গের স্পষ্ট ঘটনাগুলো কেন উপেক্ষিত?
সাধারণ নাগরিক হলে যে অপরাধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হতো, সেখানে তারেক রহমানের ক্ষেত্রে নীরবতা কেন?তবে কি তিনি সত্যিই আইনের ঊর্ধ্বে?
অপরাধ কখনো ছোট বা বড় হয় না—অপরাধ অপরাধই। ছোট অপরাধকে যদি ক্ষমতার জোরে বৈধ করে দেওয়া হয়, তবে বড় অপরাধ যে উৎসাহ পাবে, তা অনিবার্য। আইন ভাঙার এই বিশেষ সুবিধা কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়,পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আজ তাই জনমনের প্রশ্ন একটাই
আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান, নাকি তারেক রহমানের জন্য আলাদা আইন লেখা হচ্ছে?
এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না এলে, আইনশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে।
আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে – ক’দিন আগে পুতিন গিয়েছিলেন তুর্কমেনিস্তান ?
সেখানে তিনি এরদোয়ানের সাথে ৪০-৫০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন। সেখানেই মূলত তারেকের দেশে ফেরার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন পুতিন। সেদিন থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহ পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
কিন্তু,কেন পুতিন তারেকের দেশে ফেরার রাস্তা তৈরি করতে গেলেন ?
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন পুতিনের সাথে দেখা করার জন্য।দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি অপমানিত হয়ে বিরক্ত হয়ে রেগে সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন।
দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ৪০-৫০ মিনিট হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। এমন এভেইলেবল হয়,কিন্তু সেই সময়টুকু তিনি সহ্য করতে না পেরে রেগে সেখান থেকে চলে গেলেন। এমনকি তিনি জোর করে পুতিনের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা পর্যন্ত করেছিলেন-যা শিষ্টাচার বহির্ভূত।
কিন্তু,কেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এমন অস্থির হয়ে পড়েছিলেন?
প্রথম কারণ –
তিনি চেয়েছিলেন-এরদোয়ানের সাথে বৈঠকের আগে যেন তাঁর সাথে বৈঠক হয়। সেই অনুযায়ী তিনি সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু,পুতিন সময় পরম্পরা ঠিক করলেন-আগে তুরস্ক।
দ্বিতীয় কারণ –
পাকিস্তানের কাছে ইনফরমেশন ছিলো-এই বৈঠকে পুতিন এরদোয়ান এমন কিছু সিদ্ধান্তে যেতে চলেছেন – যেটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির উপর প্রভাব রাখবে
এবং সেটা অবশ্যই বাংলাদেশ প্রসঙ্গে।
তার অল্প কিছুদিন আগে পুতিন ভারত ঘুরে গেছেন।
রাশিয়া বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র সেই ৬০ এর দশক থেকে। বঙ্গবন্ধুর সাথেও রাশিয়ার সহযোগিতাপুর্ন সম্পর্ক ছিলো।
ভারত-রাশিয়া চায় না বাংলাদেশের রাজনীতি উগ্রবাদীদের হাতে চলে যাক।
রাজনৈতিক বিবেচনায় দেখলে দেখা যায়-জামাত গং চরম ডানপন্থী,বিএনপি মধ্য ডানপন্থী এবং আওয়ামীলীগ মধ্য বামপন্থী,সিপিবি গং চরম বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
বাংলাদেশে ২৪ এর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মূলত চরম ডানপন্থী (ফার রাইট) উত্থান হয়েছে। সেখানে মধ্য ডান হিসেবে বিএনপি এবং চরম বামপন্থীদের অনেকের ভূমিকা থাকলেও কেউই মূল গেইমের ভিতরবাহির জানতো না এবং কিছুই বুঝতে পারেনি। ফলে ক্ষমতা দখলের পর বিএনপি ভ্যাবাচেকা খেলেও জামাত যেহেতু তাদেরই মাসতুতো ভাই-সেহেতু তারা মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আসছিল। তাদের ভরসা ছিলো-বড় দল হিসেবে মাসতুতো ভাইয়েরা শেষ পর্যন্ত তাদের হাতে ছেড়ে দিবে। এদিকে বাংলাদেশ এর ক্যান্টনমেন্ট জামাতের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিএনপি ভিজাবিড়াল হয়ে ‘জ্বী হুজুর’হ্যা হুজুর করে আসছিলো।
২৫ এর মাঝামাঝি এসে বিএনপি নিশ্চিত হলো-জামাত কখনোই তাদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিবে না। বরং তারা একের পর এক মাস্টারপ্ল্যান করে যাচ্ছে-আগামী ২০-৩০ বা ৫০ বছরের জন্য ক্ষমতায় জেঁকে বসার জন্য। খিলাফত কায়েমের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্য সকল রাজনৈতিক দলকে মুছে দেয়াই তাদের শেষ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
জামাত গং যখন বুঝতে পারলো – দেশের ৫০% ( সকল জরিপের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৮%, সর্বনিম্ন পরিমাণ ৩০% এর গড় করলাম) আওয়ামী সমর্থক। বাকি ৫০% এর মধ্যে ফার রাইট আছে সর্বোচ্চ ১০-১৫ %,৩০-৩৫ % বিএনপি।
জামাত গং এই বিশ্লেষণ থেকে বুঝতে পেরেছে – মধ্য ডান থেকেই তাদেরকে সমর্থন টানতে হবে,আওয়ামী বা বাম থেকে কঠিন বা অসম্ভব।
সুতরাং জামাত গংদের সিদ্ধান্ত বিএনপিকে ধ্বংস করে দিয়ে তাদের দল ভারি করতে হবে এবং পরবর্তীতে মধ্য ডান এবং বামদের দমন-পীড়ন বা গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়ে নিজেদের উদ্যেশ্য সফল করা যাবে।ফলে স্ট্রাটেজিল্যালি জামাত গংদের প্ল্যানের ধাপগুলি হলো——
★তারেককে ফেলে দেয়া
★বিএনপিকে টুকরো টুকরো করে দেয়া,
★বিএনপির বড় বড় নেতৃত্বকে বুঝিয়ে,লোভ দেখিয়ে বা অস্ত্রের মুখে জামাতে টেনে নেয়া,
★গ্রাউন্ড পর্যায়ে প্রচার ও প্রমাণ করা বিএনপি জামাত প্রায় একই দল। এই স্ট্রাটেজিতে বিএনপির কারো কারো মত এক থাকতে পারে।
এইসব তথ্য রাশিয়ার কাছে ছিল।যার জন্য সেদিন
পুতিনের ভারত সফর করার কথা ছিল ১২-১৫ ডিসেম্বর।
তিনি আকস্মিকভাবে সেই সফর এগিয়ে নিয়ে আসলেন ৫ ডিসেম্বরে। কারণ-১২ ডিসেম্বর তুর্কমেনিস্তান সফর করবেন এবং সেখানেই বোর্ডের ডানপাশের ঘোড়ার চাল অপেক্ষা করছিলো। এবং পুতিন জানেন – ভারত সফর ছাড়া সেই চাল পূর্ণতা পাবে না।
গত ১ বছরে অফিসিয়ালী পাকিস্তানের বহু সামরিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফর করেছেন।আন-অফিসিয়ালী সেই সংখ্যা অসংখ্য।
সবগুলোর পিছনে লক্ষ্য –
★বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সামরিক চুক্তি
★ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা
★সংবিধান পরিবর্তন করে দুই দেশ এক হয়ে যাওয়ার উপায় খোঁজা
★খিলাফত কায়েমের সম্ভাবনাগুলোর পরিচর্যা করা।
শেষ কোটেশনটি পুতিনের টনক নাড়িয়ে দিয়েছিল।
পুতিনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিলো – বাংলাদেশে চরম ডানপন্থীরা গোপনে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে,হাতে আর বেশি সময় নেই।
আপনারা জানেন – বাংলাদেশে পাকিস্তানের পাশাপাশি সহযোগিতা করে আসছে তুরস্ক।
পিনাকী তুরস্কপন্থী, ইলিয়াস পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়ে এক্টিভিজম করে আসছেন।(যদিও এভাবে দেখলে ইকুয়েশন এবড়োথেবড়ো হয়ে পড়ে)।
যাইহোক সারসংক্ষেপ হলো,পুতিন ভারত থেকে ফিরেই এরদোয়ানের সাথে যোগাযোগ করলেন এবং তুর্কমেনিস্তানে বৈঠকের ব্যবস্থা করলেন।
এই তথ্য পাকিস্তানের কাছে ছিলো যে, এরদোয়ান এবং পুতিনের বৈঠক বাংলাদেশের রাজনীতি পালটে দিতে পারে। ফলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পুতিনের সাক্ষাৎ চাইলেন এবং সেটা এরদোয়ানের সাথে বৈঠকের আগেই।
তিনি সেই সাক্ষাৎ পেলেন না। ফলে বাইরে অপেক্ষার একটা মুহূর্ত তাঁর কাছে মনে হচ্ছিল-নায়ক বাপ্পারাজকে বাইরে রেখে নায়িকা ভিতরে গেছে গুণ্ডা গাংগুয়ার সাথে দরজা এঁটে একান্ত বৈঠকে।৪০ মিনিটের ঐ বৈঠকে তাঁর শরীরে জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছিল।
★তারেকের দেশে ফেরার পিছনে জামাতের বাধা ছিল শতভাগ।তবে বড় বাধা ছিলো তুরস্ক এবং পিনাকী-সেটা সরিয়ে দিয়েছেন পুতিন।
(১২ ডিসেম্বর পুতিনের সাথে বৈঠকের পরপরই বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের সকল সামরিক উইংস নাকি চলে গিয়েছে।)
এরদোয়ানের সাথে পুতিনের বৈঠকের দিনই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইকুয়েশন পরিবর্তন হতে শুরু করেছিল।এর পরপরই পিনাকী ছুটে গেছেন তুরস্কে।
তারেক রহমান প্রথম আলো সহ মিডিয়া গিল্ড এবং কিছু কালচারাল উইংসে বড় বাজেট দিলেন,সেখানে ভারত – রাশিয়ার ভূমিকা ছিলো কতটা তা, পিনাকী-ইলিয়াস জানবেন সেটাই স্বাভাবিক। সেজন্যই তারা প্রথম আলো এবং কালচারাল সেক্টরে আঘাত করেছিলেন সেদিন।
এই আঘাতটাই বুমেরাং হিসেবে ব্যবহার করেছে বিগ বাজেটকৃত মিডিয়া গিল্ড।এবং ইলিয়াস পিনাকীর একের পর এক ধ্বস নেমে আসছে।খেয়াল করলে দেখবেন – তাদের আওয়াজ কমে আসছে এবং এক পর্যায়ে আর তাদেরকে শোনা যাবে না।
সুতরাং, বলা যায় – পুরো ব্যপারটায় রাশিয়ার হাত ছিল এবং উদ্যেশ্য পুর্নের শেষঅব্দি থাকবে।
সেখানে ভারতের সম্মতি ছিলো এবং আছে। কারণ ভারত চাচ্ছে-যে কোনভাবে বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি বা সংঘাতের পরিবেশ এড়াতে। কারণ বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ করে জিতলেও ভারতের লস ছাড়া কোন লাভ নাই। বাংলাদেশেরও কোন লাভ নেই,আছে শুধুমাত্র পাকিস্তানের লাভ।
বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান হলে পাকিস্তানের বড় লাভ, তুরস্কের ছোট লাভ বা লাভের সম্ভাবনা। কিন্তু ভারতের বড় লস।তাই তারা অপেক্ষাকৃত নমনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অর্থাৎ জঙ্গীবাদ ঠেকাতেই তারেকের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ আশা করা হচ্ছে – এর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা ফিরবে।
কিন্তু তার জন্য বিএনপিকে ‘জামাতের ছোট ভাই’ পদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছাড়তে হবে পাকিস্তান পন্থা মনোভাব।
এগুলো জামাত মেনে নিচ্ছে না বা নিতে পারবে না কখনোই। তাদের কিছু শক্তির ব্যাকআপ তারা সরিয়ে নিয়েছে ঠিকই কিন্তু তারা দমে যায়নি বা যাবেও না।
বরং চেষ্টা করবে-বিএনপিকে ব্যবহার করে তাদের শিকড় আরো গভীরে প্রথিত করতে।
হাওয়া ভবন ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে একটি “অঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্র”, যার নেতৃত্বে ছিলেন তারেক রহমান। দুর্নীতির সকল নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ-বাণিজ্য, ঠিকাদারী চুক্তি সব হতো এখান থেকেই।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-
আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং শতাধিক আহত হন।
দুনিয়া কাঁপানো “১০ ট্রাক অস্ত্র”-
চট্টগ্রামের বিএমডিপোর্টে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র ধরা পড়ে, যা ULFA বিদ্রোহীদের (ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী) কাছে পাঠানো হচ্ছিল। তদন্তে উঠে আসে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার ও শীর্ষ মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততা।
কয়লা খনির দুর্নীতি ও নাইকো কেলেঙ্কারি –
বগুড়ার কয়লা খনি ও কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে গ্যাস চুক্তিতে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নাইকো কেলেঙ্কারির মামলায় খালেদা জিয়া ও বিএনপি সরকারের উচ্চপদস্থরা অভিযুক্ত।
টু-ইন-ওয়ান’ দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য –
মন্ত্রীরা একসঙ্গে দুই-তিনটি মন্ত্রণালয় চালাতেন। অভিযোগ রয়েছে, বড় প্রকল্প থেকে ১০%-২০% কমিশন আদায় করা হতো। সব প্রজেক্টে ঘুষ-কমিশনের রেট নির্ধারিত ছিল।
শিক্ষা ও প্রশাসনে দলীয়করণ –
সরকারি নিয়োগ, বিসিএস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের চাকরি, পদোন্নতি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হতো।
‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব –
২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টিআই-এর রিপোর্টে বাংলাদেশ একটানা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে র্যাংক হয়েছিল।
সিমেন্ট কারখানা থেকে যুদ্ধাপরাধীদের দোসরদের ব্যবসা বিস্তার- জামায়াতের মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে সিমেন্ট, টেলিকম, এবং বাণিজ্যে জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাপক ব্যবসা গড়ে ওঠে।
উন্নয়ন প্রকল্প স্থবিরতা ও মেগা প্রকল্পে অনীহা –
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে পদ্মা সেতু, রূপপুর প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু টানেলসহ বেশকিছু মেগাপ্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বিএনপি সরকার এসব থামিয়ে দিয়েছিল।
বিঃদ্রঃ তার দুর্নীতির কথা লিখে শেষ করা যাবে না। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমলে এই দেশ অন্তত কয়েক যুগ পিছিয়ে গিয়েছিল। কালের বিবর্তন এই বিষয়গুলো যেন নতুন প্রজন্ম ভুলে না যায়।