“রাজনীতি কেবল পুরুষের নয়, দেশ গঠনে নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য”— এই দর্শনের বাস্তব রূপকার ছিলেন তিনি।
আজ ৩ মার্চ, বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, মহীয়সী নারী এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বেগম বদরুন্নেসা আহমেদ-এর জন্মবার্ষিকী। তাঁর জন্মদিনে জয় বাংলা ব্রিগেড-এর পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
স্মরণ সভা ও ভার্চ্যুয়াল আলোচনা
বেগম বদরুন্নেসা আহমেদের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করতে জয় বাংলা ব্রিগেড-এর জুম প্ল্যাটফর্মে এক বিশেষ ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয় বাংলা ব্রিগেড এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. রাব্বি আলম,পিএইচডি বলেন – ছয় দফা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেগম বদরুন্নেসা আহমেদের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বক্তব্যে আরো তুলে ধরেন ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং নারীদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে ১৯৬৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ’। কলকাতার সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল স্কুল থেকে শুরু করে লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ১৯৭৪ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশ ও মানুষের সেবায় অনন্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয়।
”বেগম বদরুন্নেসা আহমেদ কেবল একজন মন্ত্রী বা নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন সরকারি কর্মকর্তাদের স্ত্রীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথপ্রদর্শক এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রাতিষ্ঠানিক রূপকার”
জয় বাংলা ব্রিগেড বিশ্বাস করে, বেগম বদরুন্নেসা আহমেদের প্রদর্শিত পথেই গড়ে উঠবে আগামীর স্মার্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ। তাঁর জন্মদিনে আমাদের শপথ হোক— নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে যাওয়া।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তথাকথিত গণভোট নিয়ে জনমনে যে সংশয় ছিল,তা এখন এক নজিরবিহীন দালিলিক সত্যে পরিণত হয়েছে। কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রায় সাড়ে নয় লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোটসহ মোট দশ লাখেরও বেশি ভোট রাতারাতি গায়েব হয়ে গেছে। এই ঘটনা কেবল একটি যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি ২০২৪ সালের অসাংবিধানিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের ম্যান্ডেট জালিয়াতির এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
নির্বাচন কমিশনের নতুন গেজেট অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত ফলাফল থেকে ১০ লাখের বেশি ভোট কমিয়ে ফেলা হয়েছে। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যখন কোনো কারণ না দর্শিয়েই ভোটের সংখ্যায় এমন বিশাল পরিবর্তন আনে, তখন বুঝে নিতে কষ্ট হয় না যে—কাগজে-কলমে ভোটের হিসেব মেলাতে গিয়ে তারা খেই হারিয়ে ফেলেছে।
জুলাই জাতীয় সনদকে বৈধতা দিতে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের যে বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল ছিল না বলে এই সংশোধনী নিয়ে আসছে নিরবে নির্বাচন কমিশন।
কমিশন বলেছে ‘কমিশনের আদেশক্রমে’ এই পরিবর্তন। কিন্তু এই দশ লাখ ভোট কি ভূতে দিয়ে গিয়েছিল? নাকি ব্যালট বাক্স পূর্ণ করার তাড়াহুড়োয় গণনার চেয়ে বেশি ভোট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল?
২০২৪ সালে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এক চরম নৈতিক সংকটে ভুগছে। বিদেশী প্রেসক্রিপশন এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর মদদে পরিচালিত সেই ক্ষমতা দখলকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা ‘জুলাই সনদ’ নামক একটি আইনি মোড়ক তৈরি করে।
এই গণভোটের উদ্দেশ্য ছিল সেই জবরদখলকে জনগণের দোহাই দিয়ে জায়েজ করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এদেশের সচেতন মানুষ এই জালিয়াতির ভোট বর্জন করেছে। মাঠপর্যায়ে জনশূন্য কেন্দ্র আর কাগজের গেজেটে কোটি কোটি ভোটের বৈপরীত্যই আজ কমিশনকে এই লজ্জাজনক সংশোধনীর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ক্ষুদ্রঋণের জন্য বিশ্বখ্যাত ড. ইউনূস আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। গণতন্ত্রের ‘ভেক’ ধরে তিনি এবং তার সরকার যা করছেন, তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে এই সংশোধনীর গেজেট প্রমাণ করছে যে, সত্যকে চাপা দিয়ে রাখার দিন শেষ হয়ে আসছে।
”দশ লাখ ভোট হঠাৎ কমে যায় না। এই নির্লজ্জ নীরবতা আসলে একটি মহাজালিয়াতির সবচেয়ে বড় স্বীকারোক্তি।”
সম্প্রতি ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম প্লাটফর্মে আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই জালিয়াতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সভার সারসংক্ষেপ ছিল স্পষ্ট:
১. এই সরকার জনগণের ভোটে নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায়।
২. গণভোটের নামে প্রহসন করে তারা সংবিধানের ওপর আঘাত হেনেছে।
৩. আন্তর্জাতিক মহলের উচিত এই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
সর্বশেষে জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলেন—ভোটের সংখ্যা কমিয়ে জালিয়াতি ঢাকা যাবে না। যে ভিত্তিটি মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে, তার পতন অনিবার্য। এই ১০ লাখ ভোটের হিসাব কমিশনকে দিতেই হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন দখলদার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনায় চরম স্বৈরাচারী মনোভাব ও অগণতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ তুলেছে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’। সম্প্রতি সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সভায় বক্তারা প্রধান উপদেষ্টার শাসনব্যবস্থার বেশ কিছু অন্ধকার দিক তুলে ধরেন:
★গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো ক্যাবিনেট মিটিংয়ে না নিয়ে বরং ক্যাবিনেটের বাইরে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর মাধ্যমে নেওয়া হতো।
★সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন যাদের পরিচয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছেও অস্পষ্ট ছিল।
★যারা জনস্বার্থে দ্বিমত পোষণ করতেন (যেমন: জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস বা সূচি বাদ দেওয়ার বিরোধিতা), তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হতো।
★সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্যমতে, “আমি হয়তো তাদের মনোভাবের লোক ছিলাম না,”—এটি প্রমাণ করে যে ড. ইউনূস কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন।
আলোচনা সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, ড. ইউনূস মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও কার্যত একটি ‘অদৃশ্য স্বৈরাচারী বলয়’ তৈরি করেছিলেন। সাখাওয়াত হোসেনের মতো একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাকে যখন অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে ওই সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছিল না।
”একটি দেশের প্রধান উপদেষ্টা যখন ক্যাবিনেটকে গুরুত্ব না দিয়ে গোপন কোনো কক্ষ থেকে দেশ চালান, তাকে গণতন্ত্র নয় বরং ‘ব্যক্তিগত জমিদারতন্ত্র’ বলা চলে। সাখাওয়াত হোসেনের স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, ইউনূস সরকার ছিল আপাদমস্তক অগণতান্ত্রিক।”
বক্তারা দাবি করেন, এই ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর সদস্যদের পরিচয় এবং তাদের মাধ্যমে কী কী রাষ্ট্রবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, ইতিহাসের কোনো এক পর্যায়ে এই স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে ইনশাআল্লাহ।
দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আমার বোনেরা বিনা অপরাধে, মিথ্যা মামলার জালে বন্দী হয়ে জেল খাটছে। এটি কেবল আইনের অপব্যবহার নয়,বরং একটি পরিবারের ওপর চরম বর্বরতা। কেন এই জুলুম? বিচ্ছিন্নকরণ শাস্তি হিসেবে তাদের নিজ এলাকা থেকে দূরে, ভিন্ন ভিন্ন জেলার কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা যখনই দেখা করতে যাচ্ছেন, পদে পদে তাদের হেনস্তা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নারীদের ওপর এমন অমানবিক আচরণ কোন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে? এটি প্রতিহিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মা-বোনদের ওপর এমন হিংসাত্মক আচরণ কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। নারীদের ওপর নির্যাতন নয়, আমরা ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা চাই। অবিলম্বে আমার বোনদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক এবং এই অমানবিক হয়রানি বন্ধ করা হোক। ”নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই, বোনদের মুক্তি আমাদের দায়।”
মোঃ ফকরুল ইসলাম প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়
পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে টিসিবির ট্রাক থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যে হাহাকার এবং পরবর্তীতে চলন্ত ট্রাক থেকে ছিটকে পড়ে এক নারীর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে— ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ তার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রমাণ করে যে, বর্তমান প্রশাসন বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, উপচে পড়া ভিড় সামলাতে না পেরে ট্রাকচালক যখন দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন, তখন এক নারী চলন্ত ট্রাক থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। একটি সভ্য সমাজে খাদ্যের জন্য মানুষের এমন জীবনসংকটাপন্ন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রমে এমন বিশৃঙ্খলা বা জীবনের ঝুঁকি তৈরির কোনো নজির ছিল না। তখন কার্ডধারী ও সাধারণ মানুষের জন্য পরিকল্পিতভাবে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হতো। অথচ আজ সাধারণ মানুষকে এক কেজি ডাল বা তেলের জন্য রাজপথে জীবন বাজি রাখতে হচ্ছে। অবৈধ প্রহসনের সরকারের অব্যবস্থাপনা আর অদূরদর্শিতার কারণেই আজ সাধারণ মানুষের এই করুণ দশা।
জয় বাংলা ব্রিগেড-এর পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই:
উত্তরায় আহত নারীর সুচিকিৎসা এবং এই বিশৃঙ্খলার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
২৪ ঘন্টার মধ্যে সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় আনতে হবে।
টিসিবির পণ্য বিতরণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলতা নিশ্চিত করতে হবে যেন সাধারণ মানুষকে লাঞ্ছিত বা আহত হতে না হয়।
জনগণের পেটে ক্ষুধা রেখে আর পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে কোনো শাসন চলতে পারে না। জয় বাংলা ব্রিগেড সর্বদা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিল এবং থাকবে। জনবিচ্ছিন্ন এই প্রশাসনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে আমাদের রাজপথের লড়াই আরও বেগবান হবে।
তথাকথিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় এবং বৈঠকের শুরুতে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের সময়টাতে সভাপতিত্ব কে করবেন, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী, যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকতে হবে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, আগামী ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি সে মতে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করা হবে। শোক প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে।
সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে সংসদ নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী স্পিকার নির্বাচনের কাজ করা হয়। বলা যায়, নির্বাচিত সংসদের প্রথম কাজ এটি। বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে এই কাজ হয়ে থাকে। আর বিদায়ী স্পিকার নিজে প্রার্থী হলে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার এ সময়টাতে সভাপতিত্ব করেন। এবার বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ‘অনুপস্থিতিতে’ সংসদের প্রথম অধিবেশন তথা স্পিকার নির্বাচনের সময়টাতে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সাধারণত গেজেট প্রকাশের পর বিদায়ী সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন।
প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, সে বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে। এমন পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিন পার হওয়ার পর গত মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন।
সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে সংসদ নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী স্পিকার নির্বাচনের কাজ করা হয়। বলা যায়, নির্বাচিত সংসদের প্রথম কাজ এটি। বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে এই কাজ হয়ে থাকে। আর বিদায়ী স্পিকার নিজে প্রার্থী হলে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার এ সময়টাতে সভাপতিত্ব করেন। এবার বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ‘অনুপস্থিতিতে’ সংসদের প্রথম অধিবেশন তথা স্পিকার নির্বাচনের সময়টাতে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে (৫ নং ধারা) এ বলা আছে, সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনের পূর্বে সংসদে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফরমে বিদায়ী স্পিকারের এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকারের এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বিদায়ী স্পিকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সামনে এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ শূন্য থাকলে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনা ও সংসদে সভাপতিত্ব করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তির সামনে শপথ নেবেন। এ বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, সে বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।
স্পিকার নির্বাচন হয় কীভাবে
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে যেকোনো সদস্য অন্য কোনো সদস্যকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে সম্বোধন করে লিখিতভাবে একটি প্রস্তাবের নোটিশ দিতে পারেন। এই নোটিশ তৃতীয় একজন সদস্য কর্তৃক সমর্থিত হতে হয়। যাঁর নাম প্রস্তাব করা হবে, তিনি নির্বাচিত হলে স্পিকার হিসেবে কাজ করতে সম্মত আছেন, এমন একটি বিবৃতিও নোটিশের সঙ্গে দিতে হয়।
তবে কোনো সদস্য স্পিকার পদে নিজের নাম প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারবেন না। এ ছাড়া কোনো সদস্য নিজের নির্বাচনের সময় সভাপতিত্বও করতে পারেন না।
যথাযথভাবে উত্থাপিত ও সমর্থিত প্রস্তাবগুলো উত্থাপিত হওয়ার ক্রমানুসারে ভোটে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বিভক্তি-ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে। কোনো প্রস্তাব গৃহীত হয়ে গেলে অবশিষ্ট প্রস্তাবগুলো ভোটে দেওয়া হয় না। একই পদ্ধতিতে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। সাধারণত জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়েই এই শপথ পড়ানো হয়। নতুন স্পিকার শপথ নেওয়ার পর তিনি সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন হতে পারে।
কী আছে সংবিধান ও বিধিতে
বিদ্যমান সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সম্পর্কিত বিধান আছে। সেখানে বলা আছে, ‘কোনো সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে সংসদ একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করিবেন, এবং এই দুই পদের যে কোনটি শূন্য হইলে সাত দিনের মধ্যে কিংবা ওই সময়ে সংসদ বৈঠকরত না থাকিলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তাহা পূর্ণ করিবার জন্য সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে নির্বাচিত করিবেন।’
সংবিনের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, স্পিকারের পদ শূন্য হলে বা অন্য কোনো কারণে তিনি স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলে সংসদ নির্ধারণ করলে স্পিকারের সব দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করবেন। কিংবা ডেপুটি স্পিকারের পদও শূন্য হলে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য এই দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদের কোনো বৈঠকে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত থাকলে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন দেননি। শপথ পড়িয়েছেন সিইসি। এখন শুধু স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন দিতে পারেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা আছে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে (৫ নং ধারা) এ বলা আছে, সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনের পূর্বে সংসদে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফরমে বিদায়ী স্পিকারের এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকারের এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বিদায়ী স্পিকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সামনে এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ শূন্য থাকলে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনা ও সংসদে সভাপতিত্ব করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তির সামনে শপথ নেবেন।
অন্যদিকে সংবিধানে বলা আছে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য হলেও তাঁর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন দেননি। শপথ পড়িয়েছেন সিইসি। এখন শুধু স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন দিতে পারেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা আছে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২১ ধারায় বলা আছে,স্পিকার বা সংবিধান বা কার্যপ্রণালি বিধির অধীন যোগ্যতাসম্পন্ন অন্য কোনো সদস্য সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করলে বৈঠক যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। সে হিসেবে যেকোনো সংসদ সদস্য সভাপতিত্ব করতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
আবার কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার কোনো অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনীত করেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তাঁরা সভাপতিত্ব করেন। কার্যপ্রণালি বিধির ১২(২) বিধিতে বলা আছে, ‘যদি কোনো সময় সংসদের কোনো বৈঠকে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কেউই উপস্থিত না থাকেন, তা হলে সচিব তা সংসদকে জানাবেন। এবং সংসদ একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতিত্ব করার জন্য নির্বাচিত করবেন।’ অবশ্য এটি সংসদের প্রথম বৈঠকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে মতভিন্নতা আছে।
সংসদবিষয়ক গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ প্রথম বাংলাদেশ’কে বলেন, এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মনোনীত (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে) কোনো ব্যক্তি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সভাপতিত্ব করতে পারেন।
টানা দেড় বছরের শ্বাসরুদ্ধকর বন্দিদশা ও অসহযোগিতা পেরিয়ে অবশেষে দেশবাসীর সামনে চরম সত্য তুলে ধরেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রথম বাংলাদেশকে দেওয়া এক রোমহর্ষক সাক্ষাৎকারে তিনি উন্মোচন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চরম স্বেচ্ছাচারিতা, সংবিধান লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রপতির পদকে অবমাননা করার এক ঘৃণ্য ব্লু-প্রিন্ট। শত ষড়যন্ত্র ও অসাংবিধানিক চাপের মুখেও পাহাড়সম দৃঢ়তা নিয়ে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা একাই রক্ষা করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান।
ড. ইউনূসের সংবিধান লঙ্ঘন ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ
সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গেই ড. ইউনূস চরম অসাংবিধানিক ও অকৃতজ্ঞ আচরণ করেছেন। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, সরকার প্রধান বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করবেন। কিন্তু ড. ইউনূস গত দেড় বছরে ১৪-১৫ বার বিদেশ গেলেও এক বারের জন্যও বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে কিছু জানানোর সৌজন্যটুকু দেখাননি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়েও রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে। কোনো সমন্বয় ছাড়াই ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে ড. ইউনূস কার্যত নিজের চরম স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেই খোদ অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর রাষ্ট্রদ্রোহী চক্রান্তে লিপ্ত ছিল একটি মহল। ড. ইউনূসের সরকারের একজন উপদেষ্টা বে-আইনিভাবে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসানোর প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিচারপতির সততা ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধের কারণে সরকারের সেই অসাংবিধানিক উদ্যোগ চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
ভাড়াটে দুর্বৃত্ত দিয়ে বঙ্গভবন ঘেরাও ও লুটপাটের ব্লু-প্রিন্ট
গত ২২ অক্টোবর অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার পেছনের সত্যও তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপতি। রাতারাতি গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ভুঁইফোড় ব্যানারে ভাড়াটে ও ছিন্নমূল লোকজন এনে বঙ্গভবনে গণভবনের মতো লুটপাটের ছক কষা হয়েছিল। সাউন্ড গ্রেনেড পড়ার পর কাঁটাতারের ওপর পড়ে গিয়ে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার নাটক সাজিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই বিভীষিকাময় রাতেও ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতির খোঁজ নেওয়ার বা তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন মনে করেননি।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি এতটাই প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিল যে, সারাবিশ্বের বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে বে-আইনিভাবে ও কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এক রাতের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলা হয়। তাকে কাতার ও কসোভোর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত চিঠি লিখিয়ে তার বিদেশ সফর বাতিল করা হয়। এমনকি বঙ্গভবনের দীর্ঘদিনের পুরনো প্রেস উইংয়ের সদস্যদের অন্যায়ভাবে প্রত্যাহার করে রাষ্ট্রপতিকে দেশের জনগণের কাছ থেকে আড়াল করে ‘প্রতিবন্ধী’ করে রাখার এক জঘন্য চেষ্টা চালানো হয়। জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্রে রাষ্ট্রপতির বাণী পর্যন্ত বন্ধ করে দেয় এই সরকার।
প্রাণনাশের হুমকি ও ক্ষমতাচ্যুত করার সব ধরনের ষড়যন্ত্রের মুখেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন হিমালয়ের মতো অটল। তিনি সাক্ষাৎকারে দৃঢ়চিত্তে বলেছেন, “আমার রক্ত ঝরে যাবে বঙ্গভবনে। রক্ত ঝরে ঝরুক। কিন্তু আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব।”
রাষ্ট্রপতির এই দেশপ্রেমিক ও সাহসী অবস্থানে পূর্ণ সমর্থন দেয় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বিএনপি। তিন বাহিনীর প্রধানরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রপতির পতন মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীর পতন, যা তারা যে কোনো মূল্যে রোধ করবেন। মূলত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই অসীম সাহসিকতা, সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেম এবং বিএনপির সাংবিধানিক রাজনীতির কারণেই ড. ইউনূস সরকারের অ-সাংবিধানিক চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশ এক ভয়ংকর সাংবিধানিক শূন্যতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
তারিখ:২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬স্থান:জয় বাংলা ব্রিগেড জুম প্লাটফর্ম
সংগঠন গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি আলোচনা সভা আহ্বান
সাংগঠনিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এক জরুরি আলোচনা সভা আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০:৩০ মিনিটেঅনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত আলোচনা সভায় সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সভায় জয় বাংলা ব্রিগেড-এর সকল মেজর, কো-মেজর, ক্যাপ্টেন, কো-ক্যাপ্টেন, আহ্বায়ক,সদস্য সচিবসহকেন্দ্রীয় কমিটি ও বিভাগ,জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং প্রবাসী সকল সংগ্রামী নেতা-কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
সংগঠনের নীতি ও আদর্শকে আরও সুসংহত করতে এবং আসন্ন কর্মসূচিসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়নে আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক মতামত একান্ত কাম্য।
সকলের সম্মিলিত উপস্থিতিতে এই আলোচনা সভাকে সাফল্য মন্ডিত করে তোলার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
জয় বাংলা ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি’র
নির্দেশক্রমে,
মোঃ ফকরুল ইসলাম
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদককেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিজয় বাংলা ব্রিগেড
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,আমি কি ভুলিতে পারি?”
আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি। বাঙালির আত্মপরিচয় ও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় ঢাকার রাজপথে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেক বীর সন্তান। তাদের সেই মহান আত্মত্যাগের প্রতি জয় বাংলা ব্রিগেড জানায় বিনম্র শ্রদ্ধা।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা সংখ্যাগুরু বাঙালির উপর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। কিন্তু বাঙালির প্রাণের দাবি ছিল— ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।
১৯৪৮ সালে জিন্নাহর ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদ।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। রক্তের বিনিময়ে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সংবিধানে বাংলাভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আজ সারা বিশ্বের প্রায় ১৯০টিরও বেশি দেশ এই দিনটি পালন করে। এটি কেবল আমাদের ভাষার লড়াই নয়, বরং পৃথিবীর সকল বিলুপ্তপ্রায় ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অনুপ্রেরণা।
জয় বাংলা ব্রিগেড বিশ্বাস করে, একুশের চেতনা কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের লক্ষ্য:
১. তরুণ প্রজন্মের কাছে একুশের প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া।
২. সর্বস্তরে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা নিশ্চিত করা।
৩. ভাষা শহীদদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশপ্রেমের শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
রক্তে কেনা বর্ণমালা, বৃথা যেতে দেব না। আসুন, অমর একুশের চেতনায় দীপ্ত হয়ে আমরা শপথ নিই— একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার।
বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এক অন্ধকার সময়ে (২০০১-২০০৬) আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে এক চরম অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সেই শাসনামল আজও মানুষের স্মৃতিতে আতঙ্ক, অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার এক দুঃসহ অধ্যায় হয়ে আছে।
স্মৃতিতে অম্লান সেই দুঃসহ দিনগুলো:
জঙ্গিবাদের উত্থান ও সিরিজ বোমা হামলা: সারাদেশে একযোগে ৫০০-র বেশি জায়গায় বোমা হামলা এবং রাষ্ট্রীয় মদদে জঙ্গিবাদের উত্থান আমরা ভুলে যাইনি।
রক্তাক্ত ২১শে আগস্ট ও দশ ট্রাক অস্ত্র: জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে অস্ত্রের চোরাচালান বিশ্বদরবারে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছিল।
বিদ্যুৎ ও কৃষি সংকট: বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়িয়ে উল্টো কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে শিল্প ও কৃষি স্থবির হয়ে পড়েছিল। সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর চালানো হয়েছিল গুলি।
সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের ওপর নিপীড়ন: রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছিল, তা ছিল মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: আবারও সেই পুরনো ষড়যন্ত্র
আজ আমরা আবারও লক্ষ্য করছি সেই একই অশুভ শক্তির আনাগোনা। ক্ষমতা দখলের নেশায় তারা আবারও মেতে উঠেছে সহিংসতায়। কুষ্টিয়ায় বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ কিংবা সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা—এসবই সেই পুরনো দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তির আলামত। অবৈধ ও সাজানো পন্থায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে অচল করার চেষ্টা চলছে।
আমাদের অঙ্গীকার ও আপনার করণীয়:
বাংলাদেশ কোনো অশুভ শক্তির চারণভূমি হতে পারে না। দেশ বাঁচে ঐক্যে, দেশ টিকে থাকে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে।
১. সংগঠিত হোন: পাড়া-মহল্লায় দেশবিরোধী শক্তির অপতৎপরতা রুখতে সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করুন।
২. সহিংসতাকে ‘না’ বলুন: কোনো ধরনের উস্কানি বা গুজবে কান দেবেন না। সহিংসতা নয়, বরং সংগঠিত গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন।
৩. সম্প্রীতি রক্ষা করুন: আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ভাই-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেবেন না।
বাংলাদেশ কোনো অশুভ শক্তির কাছে মাথানত করবে না। জয় বাংলা ব্রিগেড সর্বদা জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। আসুন, দেশ বাঁচাতে আমরা একতাবদ্ধ হই।