বাঙালির প্রতিটি লড়াই-সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর অর্জনের অবিনাশী নাম—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁরই সুযোগ্য তনয়া, বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতিটি লড়াই এখন এদেশের মানুষের উন্নয়ন, শান্তি ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক গভীর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জয় বাংলা ব্রিগেড আপনাদের পাশে আছে।
✊ আমাদের অঙ্গীকার ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান:
সংহতি ও ঐক্য: দেশবিরোধী অপশক্তি যখনই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চেয়েছে, এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দিয়েছে। বর্তমানেও সকল ষড়যন্ত্র ও গুজব মোকাবিলায় আমাদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখতে হবে।
উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা রক্ষা: গত দেড় দশকে অর্জিত বাংলাদেশের প্রতিটি মেগা প্রকল্প এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ধ্বংস করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব।
শান্তি বজায় রাখুন: শান্তিপ্রিয় জনগণকে বিভ্রান্ত করতে একটি মহল নিরন্তর অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই অপপ্রচারে কান না দিয়ে ধৈর্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
নির্ভীক পদযাত্রা: আওয়ামী লীগ রাজপথ থেকে উঠে আসা দল। জেল-জুলুম বা ভয় দেখিয়ে এই আদর্শিক কাফেলাকে স্তব্ধ করা সম্ভব নয়। আমরা জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সর্বদা মাঠে ছিলাম এবং থাকব।
”সংগ্রামের অপর নাম আওয়ামী লীগ। আমরা বারবার প্রমাণ করেছি যে, আঘাত এলে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াই।”
দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এবং জয় বাংলা ব্রিগেডের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে আজই শপথ নিন। মনে রাখবেন, আমাদের শিকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে। কোনো ঝড় আমাদের উপড়ে ফেলতে পারবে না।
জয় বাংলা!জয় বঙ্গবন্ধু!বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
নির্দেশক্রমে,
মোঃ ফকরুল ইসলাম
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয় (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছায়াতলে একনিষ্ঠ কর্মী বাহিনী)
সংযম,সহমর্মিতা ও শান্তির মাস পবিত্র রমজান আমাদের দ্বারে সমাগত।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
রমজান আমাদের শিক্ষা দেয় আত্মশুদ্ধি,ত্যাগ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। এই পবিত্র মাসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একটি শোষণমুক্ত,অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আমরা যেন আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে পারি।
”রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করি,ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সুন্দর সমাজ গড়ি।”
আমাদের প্রার্থনা:
এই রমজান বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সিয়াম সাধনা কবুল করার তৌফিক দান করুন।
আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি। বিনম্র শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় আমরা স্মরণ করছি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী, প্রগতিশীল সমাজচিন্তক এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া‘র ৮৪তম জন্মবার্ষিকী।
১৯৪২ সালের এই দিনে রংপুরের পীরগঞ্জের ফতেপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী এই মানুষটি ছিলেন মেধা, মনন আর সততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
একনজরে তাঁর গৌরবময় জীবন ও অবদান:
বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান: বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেছেন। তাঁর গবেষণা ও চিন্তাধারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমাদৃত।
গবেষণা ও লেখালেখি: বিজ্ঞান, রাজনীতি ও সমাজ গবেষণা নিয়ে তাঁর লেখা অসংখ্য প্রবন্ধ ও গ্রন্থ আজও আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে।
ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ: তিনি ছিলেন নির্মোহ, প্রচারবিমুখ এবং আত্মমর্যাদাশীল একজন মানুষ। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকেও তিনি কখনো ব্যক্তিস্বার্থকে বড় করে দেখেননি।
ঐতিহাসিক বন্ধন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি প্রতিটি সংকটে ও সংগ্রামে থেকেছেন অবিচল ও ছায়ার মতো।
”দেশ ও মানুষের কল্যাণ চিন্তাই ছিল তাঁর জীবনের মূল প্রেরণা। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় কীভাবে মেধা ও সততার সমন্বয় ঘটিয়ে জাতির সেবা করতে হয়।
জয় বাংলা ব্রিগেড-এর অঙ্গীকার
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া’র এই বিশেষ দিনে জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। তাঁর প্রদর্শিত নীতিনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে আমরা এগিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
আজ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বরেণ্য শিক্ষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অধ্যাপক ড. এ কে এম জামাল উদ্দিনের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলা ও তাঁকে লাঞ্ছিত করার ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাচ্ছি।
🚫 এখনই যদি এই রূপ হয়,তবে সামনে কী?
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে মাত্র,অথচ এখনো সরকার গঠিত হয়নি। এর মধ্যেই প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি-উৎসাহী কর্মকর্তা নব্য প্রভুদের খুশি করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অতন্দ্র প্রহরীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। একজন নিরস্ত্র শিক্ষক এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কলার চেপে ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের মূলে কুঠারাঘাত।
⚠️ আমাদের বার্তা স্পষ্ট:
প্রশাসনের প্রতি: মনে রাখবেন, সরকার আসে সরকার যায়,কিন্তু আইনের শাসন চিরস্থায়ী। ক্ষমতার দাপটে অন্ধ হয়ে একজন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার পরিণতি শুভ হবে না। অতি-উৎসাহী হয়ে যারা ‘নব্য তোষামোদ’ শুরু করেছেন তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে।
ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি: বিএনপি নির্বাচনের জয় পেতেই যদি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের রাজপথে লাঞ্ছিত হতে হয়, তবে দেশপ্রেমিক জনতা চুপ করে বসে থাকবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হতে পারে না।
”যে হাতে আমরা একাত্তরে অস্ত্র ধরেছিলাম, সেই হাতের উত্তরসূরিদের গায়ে হাত তোলার ধৃষ্টতা দেখাবেন না। ড. জামাল উদ্দিনের সম্মান মানেই মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্মান।”
📢 আমাদের দাবি:
১. অধ্যাপক ড. এ কে এম জামাল উদ্দিনের নিঃশর্ত ও অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
২. প্রকাশ্য দিবালোকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভিন্নমত দমনের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এই মহড়া বন্ধ করতে হবে।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
মোঃ ফকরুল ইসলাম
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,
জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয় (মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল যোদ্ধা)
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জয় বাংলা ব্রিগেড জানাচ্ছে যে, টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী শেখ পরিবারের গর্ব, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চাচতো ভাই এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পরম শ্রদ্ধেয় চাচা শেখ কবির হোসেন ১৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
শেখ কবির হোসেন কেবল একটি পরিবারের অভিভাবক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের বীমা, শিক্ষা ও সমাজসেবা খাতের এক অগ্রপথিক। তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক কর্মবীর ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্বকে হারালো।
এক নজরে তাঁর গৌরবময় কর্মজীবন ও অবদান:
মরহুম শেখ কবির হোসেন দেশের উন্নয়ন ও আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান:
বীমা ও ব্যবসায়িক নেতৃত্ব: তিনি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (BIA), সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষার প্রসার: দেশজুড়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ-সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্যসেবা: জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে তাঁর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বনামধন্য হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
আদর্শিক পথচলা: তিনি আজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনার ছায়াসঙ্গী ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।
”শেখ কবির হোসেনের মৃত্যুতে আমরা একজন ত্যাগী ও সমাজসেবী ব্যক্তিত্বকে হারালাম, যাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।” — জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি।
আমাদের প্রার্থনা জয় বাংলা ব্রিগেডের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি শোক সইবার ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উপাধ্যক্ষ শামীকুল ইসলাম সরকার লিপনের জেল হেফাজতে মৃত্যুতে জয় বাংলা ব্রিগেড গভীর শোকাহত এবং একইসঙ্গে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: যে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই
শামিকুল ইসলাম লিপন কোনো সাধারণ বন্দি ছিলেন না; তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তার মৃত্যু আমাদের বিচার ব্যবস্থা ও মানবাধিকারের ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে:
বারবার জেল গেটে গ্রেফতার: মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ৬ বার জামিন পাওয়ার পরেও কারাফটক থেকে তাকে বারবার গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি কি আইনের শাসন, নাকি তিলে তিলে মেরে ফেলার সুপরিকল্পিত নীল নকশা?
চিকিৎসায় অবহেলা: দীর্ঘ দেড় বছর বিনাবিচারে আটক রেখে তাকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ হওয়ার পর যথাযথ সময়ে কেন তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হলো না?
মিথ্যা মামলার বেড়াজাল: ঢাকার মগবাজার থেকে গ্রেফতারের পর একের পর এক মিথ্যা মামলায় তাকে জড়িয়ে রাখা হয়েছে, যা একজন জননেতাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল।
আমাদের দাবি ও অবস্থান
জয় বাংলা ব্রিগেড মনে করে, উপাধ্যক্ষ লিপনের এই মৃত্যু স্রেফ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। রাজনৈতিক আদর্শের কারণে একজন মানুষকে এভাবে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না।
“লিপন ভাই মৃত্যুবরণ করেননি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাংলার মাটি থেকে এই প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব একদিন নেওয়া হবে।”
শোক ও সংহতি
আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পলাশবাড়ীর মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা উপাধ্যক্ষ শামীকুল ইসলাম লিপনের ত্যাগ বৃথা যেতে দেব না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রেখে দেশে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একপাক্ষিক এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বর্তমানে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
ভোটের হিসাবে ব্যাপক অসামঞ্জস্য ও অসাংবিধানিক প্রক্রিয়া
নির্বাচন পরবর্তী উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে অবৈধ দখলদার সরকার যে দাবি করছে,তার সাথে বাস্তবচিত্রের কোনো মিল নেই। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়াই এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
সাধারণ ভোটারদের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ব্যালট বাক্সে ভোটের হিসাব একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আয়োজিত এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে সাংবিধানিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
যদিও বিএনপি কৌশলে সরকার গঠনের পথে হাঁটছে, কিন্তু তাদের সামনের পথ মোটেও মসৃণ নয়। জয় বাংলা ব্রিগেড মনে করিয়ে দিতে চায় যে,বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সাথে আপস ও রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের সাথে সম্পৃক্ত।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বড় চ্যালেঞ্জসমূহ:
১. রাজনৈতিক বৈধতার অভাব: দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট পাওয়া অসম্ভব।
২. অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা: গণতান্ত্রিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে।
৩. মৌলবাদের উত্থান: মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গঠিত এই কাঠামো অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনাকে ধ্বংস করতে পারে।
“বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ এক অবিচ্ছেদ্য সত্তা। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে ছাড়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র কখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে পারে না। সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে হবে যাতে কোনো অপশক্তি আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা ও উন্নয়নকে নস্যাৎ করতে না পারে।” — জয় বাংলা ব্রিগেড।
জয় বাংলা ব্রিগেড স্পষ্ট ঘোষণা করছে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী কোনো শক্তিকে বাংলার মাটিতে শিকড় গাড়তে দেওয়া হবে না।আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিককে বিএনপির অতীত সহিংসতা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে এক পরিকল্পিত প্রতারণা-প্রহসনের নির্বাচন; যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। এটি ছিল না জনমতের নির্বাচন; এটি ছিল সংখ্যার কারসাজির ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রশাসনিক জালিয়াতির মহড়া।
এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং চলে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এই নির্বাচনে ভয়াবহ কারচুপি ও নির্বাচন কমিশনের ধাপে ধাপে প্রকাশিত ভোটের শতাংশেও গুরুতর অসংগতি ও অবাস্তব চিত্র দেখা যায়।
নির্বাচন কমিশনের প্রথম ব্রিফিং অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে ভোট পড়েছে ১৪.৯৬ শতাংশ বা ১,৯১,০৫,৬৮৪ জন। সে হিসাবে প্রতি মিনিটে গড়ে ৯০,৯৭৯টি করে ভোট কাস্ট হয়েছে।
পরবর্তী ব্রিফিংয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ভোটের হার জানানো হয় ৩২.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোট কাস্ট হয়েছে ১৭.৯২ শতাংশ বা ২,২৮,৮০,৩৫০ জন। প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ৩,৮১,৩৩৯টি ভোট কাস্ট হয়েছে। প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টার গড়ের তুলনায় এই হার কয়েক গুণ বেশি, যা অস্বাভাবিক। প্রথম ৩.৫ ঘণ্টায় ভোট প্রদানের হার ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৪.২৭%; পরের ঘণ্টায় ভোটগ্রহণের হার দেখানো হয়েছে ১৭.৯২%। যদি দেশের সব কেন্দ্র (৩২,৭৮৯টি) সচল থাকে, তবে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতি মিনিটে গড়ে ১১.৬৩টি ভোট পড়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতি ৫.১৬ সেকেন্ডে একটি করে ভোট কাস্ট হয়েছে, যা প্রায় অসম্ভব।
বাংলাদেশের ভোটগ্রহণের ইতিহাস জানা থাকলে বোঝা যায়; সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটদানের সবচেয়ে স্বাভাবিক ও ক্রিটিক্যাল সময় যখন ভোটগ্রহণের হার থাকে সর্বোচ্চ গতিতে। অথচ, এই সাড়ে তিন ঘণ্টায় ভোট পড়ে ১৪.৯৬%। এরপর দুপুর ১২টায় ভোটগ্রহণের হার দেখানো হয়েছে ৩২.৮৮%। মাত্র এক ঘণ্টায় শতভাগের অস্বাভাবিক লাফ!
তৃতীয় পর্যায়ে জানানো হয়, দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ। অর্থাৎ দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে দুই ঘণ্টায় বেড়েছে ১৫.০৩ শতাংশ বা ১,৯১,৯৪,৮৮৩ জন। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ১,৫৯,৯৫৮টি করে ভোট কাস্ট হয়েছে।
সর্বশেষ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে মোট ভোটের হার দেখানো হয় ৫৯.৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে বেড়েছে ১১.৫৩ শতাংশ বা ১,৪৭,২২,৭৭০ জন। সে হিসাবে প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ৯৮,১৫২টি করে ভোট কাস্ট হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিছু কেন্দ্রে ভোট দিতে গড়ে দেড় মিনিট থেকে পৌনে তিন মিনিট পর্যন্ত সময় লেগেছে। সময়সূচিভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ভোটের হার অস্বাভাবিক হারে দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
নির্বাচন কমিশন মোট প্রদত্ত ভোটের যে হিসাব দিয়েছে, তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তব চিত্র— যেমন ফাঁকা ভোটকেন্দ্র, নিষ্ক্রিয় বুথ, অনুপস্থিত ভোটার— এগুলোর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এছাড়াও, কারাগারে প্রায় ৮৬ হাজার ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৫ হাজার— প্রায় ৩%। প্রবাসে আনুমানিক দেড় কোটি ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ— প্রায় ৭%। তাই বলা চলে, সার্বিকভাবে ৬০% ভোটের দাবি শুধু অবাস্তব নয়, হাস্যকরও বটে।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সরকারি যন্ত্র সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যবহৃত হয়েছে। সরাসরি সরকার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণার দায় ও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল। ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’-এর পাশে টিক এবং ‘না’-এর পাশে ক্রস চিহ্ন— ভোটার মনস্তত্ত্বে প্রভাব বিস্তারের কী নগ্ন অপকৌশল, এবং এটি নাগরিকের মতামত নিয়ন্ত্রণও বটে। ফলাফল শিটে প্রিসাইডিং অফিসার ছাড়া অন্যদের স্বাক্ষর না থাকা স্বচ্ছতার ঘাটতিরই ইঙ্গিত দেয়।
এছাড়াও, ১৮ ঘণ্টা ধরে জাতীয় নির্বাচনের আসনভিত্তিক ফল ঘোষণা করা হলেও, একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটের আসনভিত্তিক ফল প্রকাশ করা হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর গণভোটের ফল প্রকাশ— এই বিলম্ব এবং অংশগ্রহণের সংখ্যাগত অমিল জনমনে ভোট জালিয়াতির স্পষ্ট ধারণা তৈরি করেছে।
গণভোটের ফল প্রকাশ করতে কালক্ষেপণ— নির্বাচন কমিশন কি তথ্য প্রক্রিয়াজাত করেছে, নাকি তথ্যকে প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানানসই করেছে— এই প্রশ্ন এখন বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের; যা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং বাস্তবসম্মত।
এই নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করেনি; বরং জনগণের আস্থাহীনতা, অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পথ আরও প্রশস্ত করেছে। বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় ঘোষিত ফলাফল কখনো দেশের স্থিতিশীলতা বয়ে আনতে পারে না।
ভোটের আগের দিন, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। ভোট কেনাবেচা নিয়ে টাকার ছড়াছড়ি ও বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতারের তথ্য সামনে আসে। সেদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র দখল, ব্যালটে সিল মারা এবং নির্বাচন সম্পর্কিত নানা অনিয়মের খবর দেখা যায়। বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোট শুরুর আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করে রাখেন। যে অল্প কিছু ভোটার ভোট দিতে গিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ভোট দিতে পারেননি; ভোট দিতে গিয়ে দেখা গেছে তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে ৪–৫ জন মহিলা মিলে একসঙ্গে সিল মারছেন। কোথাও কোথাও দেখা গেছে পুরুষরা সিল মারছেন। সিল মারা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে শত শত ব্যালট পেপার। অনেক কেন্দ্রে একই প্রার্থীর একাধিক পোলিং এজেন্ট দেখা গেছে। আগের রাত থেকেই রেজাল্ট শিট তৈরি করে পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
ভোটের দিন সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ সৃষ্টি, জাল ভোট, গণনার সময় অনিয়ম, প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে সিল মারার ঘটনাসহ নানা অসংগতি দেখা যায়।
আওয়ামী লীগের আমলে দুটি নির্বাচন বিএনপি স্বেচ্ছায় বর্জন করেছিল। শুধু তাই নয়, তারা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল এবং অসংখ্য মানুষের জীবন নাশ করেছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জন করেনি; আওয়ামী লীগকে বেআইনিভাবে নিষিদ্ধ করে জোর করে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। তথাপি, আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়নি এবং কোনো ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পথেও হাঁটেনি। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে এই একতরফা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোট দিতে যায়নি। যে কারণে ইউনূসের অবৈধ সরকারকে কারচুপির মাধ্যমে ভোটের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতে হয়েছে।
অবৈধ ইউনূস সরকারের অধীনে এই কারচুপির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায়, এই ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের পদত্যাগ নিশ্চিতকরণ, সকল রাজবন্দিসহ শিক্ষক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীসহ সব পেশাজীবীর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক মুক্তি, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি আজ বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের।
অবৈধ প্রহসনের নির্বাচনে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ যে অভূতপূর্ব সাহসিকতা এবং দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে,তার জন্য জয় বাংলা ব্রিগেড বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিপ্লবী অভিনন্দন জানাচ্ছে।
শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতার মোহ এবং দম্ভ থেকে যে ‘ভোট চুরির নির্লজ্জ সার্কাস’ মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, দেশের সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্র বর্জনের মাধ্যমে তার গালে এক কঠিন চপেটাঘাত করেছে। জনমানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাখ্যান প্রমাণ করে যে, বন্দুকের নল বা ভয়ের সংস্কৃতি দিয়ে বাঙালির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে স্তব্ধ করা যায় না।
আমরা মনে করি,এই নির্বাচন ছিল স্রেফ একটি আইওয়াশ এবং গণতন্ত্রের নামাবলি গায়ে দিয়ে একনায়কতন্ত্রের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে জনগণ যে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বর্তমান প্রশাসনের নৈতিক পরাজয় হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং সকল প্রলোভন উপেক্ষা করে যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন, জয় বাংলা ব্রিগেড আপনাদের এই ত্যাগের কাছে ঋণী।
”জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সরকারই বৈধ নয়। এবারের নির্বাচনে শূন্য ভোটকেন্দ্রগুলোই ছিল জালিম সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ।”আগামীর অঙ্গীকার জয় বাংলা ব্রিগেড বিশ্বাস করে,এই বর্জন কেবল একটি শুরু। রাজপথের লড়াই এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমেই আমরা একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব। ইনশাআল্লাহ,বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।
সারাদেশে আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশের নির্বাচনী পরিবেশ সাধারণ ভোটারদের জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে ভোট দিতে যাওয়া মানেই নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিসংখ্যানের চোখে ভয়াবহতা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে নাজুক।সারাদেশে ঝুঁকি: মোট ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৪১ শতাংশ কেন্দ্রকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘অধিকতর স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংখ্যায় যা ১৭,৫৫৬টি।ঢাকার চিত্র: রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ ঢাকার ১,৬১৪টি কেন্দ্রে ভোটারদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। কেন এই ভোট বর্জনের ডাক? সচেতন নাগরিক সমাজ ও অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো এই নির্বাচনকে একটি ‘অবৈধ প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করছে। তাদের মতে, যেখানে রাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র অনিরাপদ, সেখানে ভোট দেওয়া মানেই সহিংসতাকে আমন্ত্রণ জানানো। সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের আহ্বান:
★জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে: যেখানে ৪১ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে আপনার একটি ভোট দেওয়ার প্রচেষ্টায় ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা।
★প্রহসনে অংশ না নেওয়া: যে নির্বাচনে জনগণের জানমালের গ্যারান্টি নেই এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ, সেই ভোট বর্জন করাই নাগরিক সচেতনতার পরিচয়।
★অনিশ্চয়তা ও ভীতি: রাজধানীর ৭৫ শতাংশ কেন্দ্রে সংঘাতের আশঙ্কা থাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ভীতি কাজ করছে। এই আতঙ্কিত পরিবেশে কখনোই সঠিক জনমত প্রতিফলিত হওয়া সম্ভব নয়।
”আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতে। কোনো প্রহসনের বলি হয়ে নিজের বা পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন না।”
সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, এটি কোনো স্বাভাবিক নির্বাচন নয়। তাই এই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘প্রহসনের’ ভোট উৎসব বর্জন করে ঘরে থাকাই এখন সময়ের দাবি।