
বাংলাদেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের স্থিতিশীল নেতৃত্ব হঠাৎ থেমে যাওয়ার পর রাষ্ট্রযন্ত্রে যে বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রশাসন, অর্থনীতি ও উন্নয়ন খাতে। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলা কতটা ভয়াবহ হতে পারে আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতা তারই প্রমাণ।
বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন দেশের জন্য কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারছে না। সিদ্ধান্তহীনতা, অভ্যন্তরীণ অরাজকতা এবং প্রশাসনিক অক্ষমতা মিলিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্থগিত, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে, ব্যবসাবাণিজ্য সংকুচিত, এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।নেতৃত্বহীনতার চেয়ে রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক কিছু নেই। বাংলাদেশ আজ সেই বাস্তবতার মুখোমুখি।
বাংলাদেশের মানুষ জানে স্থিতিশীলতা,পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতার প্রতীক ছিলেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো বিপ্লব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা প্রতিষ্ঠা,এসব কোনো আকস্মিক সাফল্য নয়; এটি ছিল সুচিন্তিত নেতৃত্বের ফল। সেই নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে দেশ যে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে, তা ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সবাই অনুভব করছে।
উন্নয়নের যে ট্রেন একসময় দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিল, নেতৃত্ব বদলের পর তা হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে গেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল, চারলেন মহাসড়ক—যে সব প্রকল্প দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছিল,এখন সেগুলো অগ্রগতিহীন। বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন অনিশ্চিত, আন্তর্জাতিক সংস্থার আস্থা দুর্বল। রাষ্ট্র পরিচালনায় অস্থিরতা তৈরি হলে উন্নয়ন কত সহজে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ আজ সে কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করে দিচ্ছে,অদক্ষ নেতৃত্ব রাষ্ট্রকে সংকটে ফেলে দিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন, এবং প্রশাসন নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চিত। একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনসমর্থন ও বৈধতা। এই দুটি বৈশিষ্ট্য ছাড়া রাষ্ট্র কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে না। দেশের ভেতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা রোধ করার মতো দৃঢ় নেতৃত্ব এখন নেই বললেই চলে।
এই পরিস্থিতিতে জনগণের একটি বড় অংশের মত স্পষ্ট দেশকে আবার স্থিতিশীল পথে ফেরাতে হলে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন। নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা শুধু উন্নয়ন নয়, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক, কারণ দেশের সংকট এখন আরও গভীর। অনিশ্চয়তার এই সময়ে একটি শক্ত, সুসংগঠিত ও জনসমর্থিত সরকারের উপস্থিতি ছাড়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে না।
দেশের সাধারণ মানুষের রায়ও স্পষ্ট। অস্থিরতার মাঝেও অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে আওয়ামীলীগের মতো সংগঠিত দল প্রয়োজন, আর দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে হলে শেখ হাসিনার মতো অভিজ্ঞ,প্রমাণিত ও স্থিতিশীল নেতৃত্বই অপরিহার্য। আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটাই সত্য দেশকে সংকট থেকে টেনে তুলতে হলে আবার শক্ত হাতে হাল ধরতে হবে সেই নেতৃত্বকেই, যিনি এক সময় বাংলাদেশকে উন্নয়নের উচ্চতায় তুলেছিলেন এবং যিনি জানেন রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালনা করতে হয়।
মোঃ ফকরুল ইসলাম
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়
Joy Bangla Brigade
Michigan USA #29-11-2025


জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু