— জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বিশেষ বিবৃতি

প্রিয় সহযোদ্ধা ও দেশবাসী, আমাদের দীর্ঘদিনের লড়াই, ত্যাগ এবং সত্যের সপক্ষে অবস্থানের এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর অন্যায় ও অসাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবশেষে বিশ্ববিবেক সোচ্চার হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ (রাষ্ট্রসংঘ) বর্তমান সরকারের কাছে এক কড়া চিঠি পাঠিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত সকল বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা কেন প্রত্যাহার করা হবে না, তার জবাব চেয়েছে।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম পক্ষপাতদুষ্ট ও অগণতান্ত্রিক আচরণের পর, বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর এই জবাবদিহিতার দায় চেপেছে। জাতিসংঘের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে— দমন-পীড়ন চালিয়ে কোটি মানুষের প্রাণের সংগঠনকে কখনোই স্তব্ধ করা যায় না।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ও বিশেষজ্ঞদের যৌথ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বর্তমান ও বিগত প্রশাসনের বেশ কিছু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে:
অগণতান্ত্রিক নিষেধাজ্ঞা: সুনির্দিষ্ট এবং বাস্তব কোনো ঝুঁকি ছাড়াই দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ধ্বংসের প্রয়াস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার: একটি রাজনৈতিক দলকে দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
ভোটের অধিকার হরণ: নির্বাচনের পূর্বে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টিতে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
ঢালাও গ্রেপ্তার ও অবিচার: আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর নির্বিচার গণগ্রেপ্তার, হেফাজতে নির্যাতন ও ন্যায্য বিচার না পাওয়ার বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে এসেছে।
আমাদের বক্তব্য: কোনো একটি পুরো দল, তার কোটি কোটি সমর্থক এবং একটি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গায়ের জোরে স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না। অপরাধের বিচার হতে হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নয়।
জয় বাংলা ব্রিগেডের উদাত্ত আহ্বান–জাতিসংঘের এই চিঠি প্রমাণ করে যে, অন্ধ আক্রোশে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা বিশ্ব দরবারে আজ প্রশ্নবিদ্ধ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছিল, তার জবাব এখন এই সরকারকে দিতেই হবে।
আসুন, আমরা এই সত্যের জয়কে সাথে নিয়ে রাজপথে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াই আরও জোরদার করি। জয় বাংলা ব্রিগেড সকল প্রকার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং আওয়ামী লীগের অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে সর্বদা অগ্রভাগে থাকবে।
লড়াই মোদের থামবে না, সত্য কভু হারবে না!
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
মোঃ ফকরুল ইসলাম
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়
Joy Bangla Brigade
Michigan USA 30-03-2026

