
বিরোধীদলগুলো বছরের পর বছর ধরে ভাঙা রেকর্ডের মতো বলে যাচ্ছে,আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছে!
অথচ জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের পর টানা ১৬ মাস পার হলেও তথাকথিত দখলদার ইউনূস কিংবা তাঁর অনুসারীরা আজও দেখাতে পারেননি।
কি বিক্রি হয়েছে, কতটুকু বিক্রি হয়েছে কিংবা তার কোন লিখিত চুক্তিপত্র।
আসিফ নজরুলের পক্ষ থেকে এক সময় “২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করে” বলে যে দাবি তোলা হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর গত ১৬ মাস ধরে সেই তালিকা চাওয়া হলেও অবৈধ ইউনূস সরকার তা দেখাতে পারেনি।
২০১২ ও ২০১৪ সালে ভারত ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ। এসব মামলায় নেতৃত্ব দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা, ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের স্বীকৃতি পায়। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমির ভিত্তি গড়ে ওঠে।
২০১৫ সালের বাংলাদেশ–ভারত ছিটমহল বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ১১১টি ছিটমহল,মোট ১৭,১৬০ একর জমি বাংলাদেশের দখলে আসে। বিপরীতে ভারত পায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টি ছিটমহল মোট ৭,১১০ একর জমি।
যখন বিশ্বের নানা প্রান্তে এক ইঞ্চি জমির জন্যও রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে, শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বেশি জমি আদায় করে নেওয়াকে কি ‘দেশ বিক্রি’ বলা যায়, নাকি এটিই সফল রাষ্ট্রীয় কূটনীতির উদাহরণ?
ভারত–বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আমদানির ফলে পরিবহন ব্যয় ও অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মাধ্যমে উত্তর বঙ্গের ১৬টি জেলায় সেচ ও কৃষিকাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।
অন্যদিকে, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির ফলে আগে যেখানে পণ্য পরিবহনে সিঙ্গাপুর ঘুরে আসতে হতো, এখন তা সরাসরি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে ভারতের বন্দরে যাচ্ছে। এতে সময় ও খরচ কমেছে, পাশাপাশি ট্রানজিট আয়ের সুবিধাও পাচ্ছে বাংলাদেশ।
কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় রহিমপুর খাল দিয়ে ১৫৩ কিউসেক পানি প্রত্যাহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট অঞ্চলের প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমি শুষ্ক মৌসুমেও চাষের আওতায় এসেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতকে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রশাসনিক ফি ও পোর্ট চার্জ আদায় করছে। এর ফলে বিশেষ করে মোংলা বন্দরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২২ সালের আগস্টে ভারতীয় কাস্টমস বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে দিল্লি ও কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিটের অনুমতি দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের মার্চে প্রথমবার বেনাপোল–পেট্রাপোল রুট হয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক দিল্লি বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্পেনে রপ্তানি হয়।
তবে বর্তমান দখলদার ইউনূসের আমলে এই সুবিধা বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে বছরে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত খরচ ও লোকসান হচ্ছে।
সমুদ্রসীমা, ছিটমহল, বন্দর, জ্বালানি ও ট্রান্সশিপমেন্ট—ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের এসব অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দেশ যদি সত্যিই ‘বিক্রি’ হয়ে যেত, তবে কি এসব অর্জন সম্ভব হতো? নাকি এসব অর্জনকেই দেশ বিক্রি বলে?
১৬ মাস অবৈধ ইউনূস সরকার গলার রগ ফুলিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা ছাড়া আর কিছুই দেখাতে পারেনি। কোথায় সেই আওয়ামী লীগের ‘দেশ বিক্রির গোপন চুক্তি’? কোথায় সেই গোলামির তালিকা?
নাকি “২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করে” বলে যে মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল, সেই দাবির মতোই সব হাওয়ায় মিলিয়ে গেল?
#Bangladesh #BangladeshCrisis #India #AwamiLeague
মোঃ ফকরুল ইসলাম
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়
Michigan USA 01-01-2026
Joy Bangla Brigade

