★শিক্ষক-শিল্পী-লেখক-বুদ্ধিজীবী-ডাক্তার-সাংবাদিক-দেশপ্রেমিক সেনা সদস্য সহ দেশের প্রগতিমনা পেশাজীবি দেরকে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা, হামলা! লান্ছিত! অপমানিত!
★কারান্তরীণ অবস্থায় ৩১ আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা!
★আওয়ামী নিধন কার্যক্রম!
★গণগ্রেফতার ও কারা অভ্যন্তরে নির্যাতন
★সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জমি-জমা দখল, লুটপাট, জ্বালিয়ে ছারখার করে দেয়া!
★খুনি-ফ্যাসিস্ট, গণশত্রু ইউনূস গং এর এমন শত-সহস্র মানব বিধ্বংসী দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড আজ বাংলাদেশকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে। প্রিয় মাতৃভূমির বুক জুড়ে আজ কালো আঁধার!
দেশ বিক্রির মহাষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত চক্রান্ত রুখতে—
অবৈধ, দখলদার, ফ্যাসিস্ট, মাফিয়া সরকারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে
প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-প্রতিরোধ কর্মসূচি ও সর্বাত্মক শাটডাউন সফল করুন
বাংলাদেশের এ ক্রান্তিলগ্নে,জয় বাংলা ব্রিগেড গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রহসনমূলক বিচার বন্ধ ও খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের পদত্যাগের দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘোষিত পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় চলমান অপশাসনের চূড়ান্ত পতন ঘটাতে জয় বাংলা ব্রিগেড এর সকল মেজর, কো-মেজর,ক্যাপ্টেন,কো-ক্যাপ্টেন,আহ্বায়ক,সদস্য সচিব,সন্মানিত সদস্যবৃন্দ সহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি এবং আপামর জনতাকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
কর্মসূচি:
★১৪ ও ১৫ নভেম্বর দেশব্যাপী ঘোষিত বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ কর্মসূচিতে রাজপথে দুর্বার গতিতে অংশগ্রহণ করুন।
★আগামী ১৬ ও ১৭ নভেম্বর সারা দেশে ঘোষিত ‘সর্বাত্নক শাটডাউন’ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করুন।
জয় বাংলা ব্রিগেড এর সকল সাংগঠনিক ইউনিটকে সকল কর্মসূচি সফল করতে সর্বোচ্চ নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুতনয়া জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার আহ্বানে ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘লকডাউন’ কর্মসূচি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সফল ও সার্থক করায় জয় বাংলা ব্রিগেড সংগ্রামী দেশবাসী এবং বিশেষভাবে অগ্রণী ভূমিকা রাখা জয় বাংলা ব্রিগেড এর সকল নেতা-কর্মীদের সহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন,অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী,শিক্ষার্থী,শিক্ষক,চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক-শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনে এই কর্মসূচি প্রমাণ করেছে বাংলার প্রতিটি ঘর আজ খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংয়ের দানবীয় শাসনের বিরুদ্ধে অধিকারহারা মানুষের দুর্গে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশকে এই কলঙ্কিত, গণবিরোধী অপশাসন থেকে মুক্ত করাই আমাদের অপরিবর্তনীয় অঙ্গীকার। ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও যৌথ সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে এনে গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী একটি প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়বো।জয় বাংলা ব্রিগেড স্পষ্ট করে বলছে: যত বেশি দমন হবে, ততই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ জোরালো হবে, আর জালিম ইউনূসের দুর্ভেদ্য শাসনের প্রাচীর একে একে ভেঙ্গে পড়বে।
জয় বাংলা মহিলা ব্রিগেড প্রধান মেজর নমিতা খানের সভাপতিত্বে এবং জয় বাংলা ব্রিগেড সদস্য সচিব -খুলনা জেলা’র সঞ্চালনায় জয় বাংলা ব্রিগেডের ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডমিনিস্ট্রিটিভ প্রধান এডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং চক্রান্তমূলকভাবে বাংলাদেশের জনগণকে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অবৈধ দখলদাররা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর থেকে সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি বেড়ে চলেছে। মবসন্ত্রাসের মতো এক অভিনব গোষ্ঠীগত সন্ত্রাসের উদ্ভব ঘটেছে। রাষ্ট্র যখন সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক এবং জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আচরণ করে তখন সেখানে সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মতো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলতে কিছু থাকে না। যে কারণে আইনের পোশাক জড়িয়ে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার ব্রাশ ফায়ারের কথা অবলীলায় বলতে পারেন। কেননা জনগণের ম্যান্ডেটহীন অবৈধ দখলদারদের টিকে থাকার উপায়ই হচ্ছে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভয় দেখানো। আর সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। গত মার্চেই একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল যে,তখন দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ৬.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবরেও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কারা হেফাজতে হত্যা, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধ বেড়েই চলছে। পরিকল্পিতভাবে কারা অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। আবার কারাগারের বাইরে মবসন্ত্রাস চালিয়ে হামলা, হত্যা ও লুটপাট করা হচ্ছে। অবৈধ দখলদাররা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সন্ত্রাসকে বেছে নিয়েছে, যেখানে মানুষের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। এদিকে বিপরীতে আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনকল্যাণমুখী মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের দৃঢ় অঙ্গীকার করছে।
১৩ নভেম্বর লক ডাউন সফল করার লক্ষ্যে জয় বাংলা ব্রিগেডের এডমিনিস্ট্রিটিভ এর প্রধান এডভোকেট কামরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এবং জয় বাংলা ব্রিগেডের খুলনা জেলা সদস্য সচিব মোঃ ফকরুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় জয় বাংলা ব্রিগেড এর ভার্চুয়াললি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জয় বাংলা ব্রিগেড এর উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয় বাংলা ব্রিগেড এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড.রাব্বি আলম পিএইচডি’র মুখপাত্র এম কবিরুল ইসলাম আকাশ বলেন খেটে খাওয়া শ্রমিক, দিনমজুর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষ এখন চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, আয় কমছে। এই খেটে খাওয়া মানুষদের মুখে একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনাই হাসি ফুটিয়েছিলেন। দিয়েছিলেন নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। কিন্তু দখলদার ইউনুসের কালো থাবায় তাদের জন্য পেট ভরে খাওয়ার চিন্তাটাই বিলাসিতার পর্যায়ে চলে গেছে।
১৩ই নভেম্বর, আমাদের একতাবদ্ধ প্রতিবাদ হবে সেই দিনের যে দিন দেশের প্রতি অন্যায়, অবিচার এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক হয়ে দাঁড়াবো।
লকডাউন মানে শুধু থেমে যাওয়া নয়, এক হয়ে উচ্চারণ করা আমাদের অধিকারের কথা।
দখলদার ইউনুসের শোষণ, অন্ধকারাচ্ছন্ন বিচার ব্যবস্থা, নিপীড়ন, অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করুন।
এখন সময় আমাদের অধিকারের জন্য দাঁড়ানোর, গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের এক হওয়ার।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যে ভয়াবহ জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং নিহতদের স্মরণে গভীর শোক, দুঃখ প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্তদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। একইসাথে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আধুনিক বিশ্বে উগ্র-জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসের কোন জায়গা নেই। এই উগ্রবাদী জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূলে আঘাত করে। এই সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে খোলনলচে বদলে ফেলেছে। পাকিস্তান ভিত্তিক এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে ভারতে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। সন্ত্রাসীদের রুখে দিয়ে মানুষে মানুষে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আদর্শিক এই লড়াইয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
বিবৃতিতে জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্বাস রাখি, বর্তমান বিশ্ব সভ্যতায় মানবতাবিরোধী এ ধরনের জঘন্য অপরাধের কোন জায়গা এবং ক্ষমা নেই। সন্ত্রাসবাদের ভিত্তিভূমি যেখানেই হোক না কেন- তা সমূলে উৎপাটন করতে হবে। বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে এই সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠীকে যারা মদদ দিচ্ছে, তারাও মানবতার শত্রু এবং তাদের প্রতিও আমরা চরম ঘৃণা প্রকাশ করছি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতের জনগণের পাশে আছি এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে ভারতকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান। আমরা বিশ্বাস করি, এই সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সমুন্নত হবে এবং পৃথিবী আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করে জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়েছেন এক সেনাসদস্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক আবেগঘন ভিডিওতে তাকে এই অঙ্গীকার করতে দেখা যায়। ক্যামোফ্লেজ প্যান্ট ও কালো বুট পরিহিত ওই ব্যক্তির heartfelt বক্তব্যটি দ্রুতই মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে।
ভিডিওতে ওই সেনাসদস্যকে বলতে শোনা যায়, “বিশ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন শপথ করে বলেছিলাম, এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো। আজ আবার শপথ করে বলতেছি, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমার জীবন আমি উৎসর্গ করবো।”
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে।” তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন যে, সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কখনো “বেইমানি করবে না”।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বহু মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ওই সেনাসদস্যের এমন নিঃশর্ত ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রশংসা করেছেন। দেশের প্রতি একজন সৈনিকের এই আবেগঘন প্রকাশকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তার এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের একাংশের গভীর আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবেই আলোচিত হচ্ছে।
Dr. Rabbi Alam: Chairman of Joy Bangla Brigade and Vice President of USA Awami League addressing the Democratic full swing of Bangladesh to return its full capacity. The Dhaka Lock Down is scheduled on November 13, 2025.
গ্রামীণ অর্থনীতির অন্তর্লীন অন্যায় ও নীরব দাসত্বের প্রতিচ্ছবি—
শেরপুরের শ্রীবরদীর দহেরপাড় গ্রামের নাম হয়তো বড় কোন মানচিত্রে চোখে পড়ে না। কিন্তু এখানকার মাটিতে যে গল্পগুলো রচিত হচ্ছে, তা বাংলাদেশের অসংখ্য গ্রামের অভিন্ন চিত্র। সেসব গল্পের একটিতে রয়েছেন কৃষক আকবর আলী—পঞ্চাশ বছর বয়সী, পরিশ্রমী, দরিদ্র অথচ মর্যাদাবোধে দৃঢ়। সম্প্রতি তিনি এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন—সুদে নেওয়া সামান্য টাকার জেরে নিজের গ্রামেই তিনি অপমানিত, নির্যাতিত এবং আহত হয়েছেন।
প্রায় এক বছর আগে আকবর আলী বারেক নামের এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেন। অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে বীজ ও সার কেনার জন্য তিনি উক্ত টাকা ধার নিয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে চার হাজার টাকা সুদ পরিশোধ করতেন নিয়মিত। মূল টাকা ফেরত দেওয়ার পরও যখন বারেক অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দাবি করেন, আকবর আলী তাতে রাজি হননি। এ থেকেই শুরু হয় ভয়াবহ পরিণতি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বারেক, আবু সামা ও বনিজ উদ্দিন আকবর আলীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। তারপর রশি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে যায় আবু সামার বাড়িতে। গ্রামের মানুষ হতভম্ব হয়ে দেখে—একজন কৃষককে রাস্তার সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে আকবর আলীকে। আহত শরীর, ভাঙা আত্মসম্মান আর তীব্র অপমানের দাগ নিয়ে তিনি এখন ন্যায়বিচারের আশায় শ্রীবরদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুদ ব্যবসা কোন নতুন বিষয় নয়। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া আজও কঠিন। কাগজপত্র, জামানত, জটিল প্রক্রিয়া—সবকিছু মিলিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে স্থানীয় “সুদখোর”দের দ্বারস্থ হন। একবার এই চক্রে পড়লে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। সুদের হার এমনই অমানবিক যে, মূল টাকা পরিশোধ করেও মানুষ ঋণের ফাঁদে বন্দি থেকে যায়।
দহেরপাড়ের আকবর আলীর ঘটনাটি তারই প্রতিচ্ছবি। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি “অর্থনৈতিক সহিংসতা”—যেখানে টাকা হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, এ ধরনের সুদ ব্যবসা শুধু অর্থ নয়, মানুষের সামাজিক মর্যাদাও ধ্বংস করে দেয়। একজন কৃষক, যিনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তিনিই আজ নিজের গ্রামে অপমানের শিকার হচ্ছেন।
গ্রামের মানুষদের মতে, এ ধরনের সুদ ব্যবসা চলতে পারে না প্রভাবশালী কারও আশ্রয় ছাড়া। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক যোগাযোগ থাকা সুদখোরদের নিরাপত্তা দেয়। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে,সুদী সন্ত্রাসী জঙ্গি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী ইউনুসের অর্থনৈতিক প্রভাবের ছত্রছায়ায় এই সুদ ব্যবসা এখন নতুন করে জোর পাচ্ছে। ফলে গ্রামীণ সমাজে ন্যায়বোধ দুর্বল হচ্ছে, ভয় তৈরি হচ্ছে, এবং মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধেও চুপ করে যাচ্ছে।
সুদের ফাঁদে পড়া মানুষ শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়। তারা আত্মসম্মান হারায়, সমাজে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, এমনকি আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়—যার উদাহরণ বাংলাদেশে কম নয়। অথচ আইন অনুযায়ী সুদ ব্যবসা অপরাধ। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই আইন প্রয়োগের চিত্র একেবারেই দুর্বল।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আমার মতে শুধু তদন্ত নয়—প্রয়োজন দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার। কারণ, এ ধরনের ঘটনাগুলো যদি উদাহরণস্বরূপ শাস্তি না পায়, তবে গ্রামের পর গ্রামের কৃষক আবারও এই অন্ধকার ফাঁদে পড়বে।
একই সঙ্গে দরকার বিকল্প সমাধান। কৃষকদের জন্য সহজ ও সুদমুক্ত ঋণ ব্যবস্থা, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষিঋণ কমিটি ও সহায়ক তহবিল থাকলেও তা প্রায় অকার্যকর। এই সুযোগেই সক্রিয় হচ্ছে ব্যক্তিগত সুদ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। রাষ্ট্র যদি কৃষকের পাশে না দাঁড়ায়, তবে এই অনৈতিক অর্থব্যবস্থা গ্রামীণ জীবনের মেরুদণ্ড আরও ভেঙে দেবে।
আকবর আলী শুধু একজন ভুক্তভোগী নন—তিনি বাংলাদেশের লাখো কৃষকের প্রতিচ্ছবি।
যাদের শ্রমে দেশের খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়, কিন্তু যাদের ঘাম মিশে যায় অন্যের লাভের স্রোতে। তারা আমাদের সমাজের নীরব স্তম্ভ, অথচ তাদের উপরই নেমে আসে অন্যায়ের হাত। এই ঘটনার পর দহেরপাড়ের গ্রামজুড়ে ভয় আর ক্ষোভের মিশ্র অনুভূতি। কেউ মুখ খোলে না, কেউ ফিসফিস করে বলে—“আজ আকবর, কাল আমি হতে পারি।”ভয়ই আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় বিপদ।
একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নয়, তার ন্যায় বোধের উপর নির্ভর করে। আকবর আলীর আর্তনাদ আমাদের সেই বোধকে প্রশ্ন করে—আমরা কি সত্যিই মানবিক সমাজ গড়তে পেরেছি?
সুদখোরদের লাঠি আর রশির কাছে যদি একজন কৃষকের মানবতা অপমানিত হয়, তবে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল পরিসংখ্যানেই থাকে, বাস্তবে নয়।
আজ দরকার একটাই—ন্যায়বিচার ও মানবতার জাগরণ। যেন আর কোনো কৃষক নিজের ঘরের উঠানে বেঁধে নির্যাতিত না হয়। শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ মাতৃভুমি,কৃষক-শ্রমিক-মজুর।
মূলত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে সপরিবারে হত্যার পর খুনিরা যখন বঙ্গভবনে বেপরোয়া-বিলাসী সময় কাটাচ্ছিল, ঠিক একই সময়ে সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় জন্য সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে আহ্বান জানান সিজিএস খালেদ মোশাররফ, ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার সাফায়াত জামিল, বিগ্রেডিয়ার নুরুজ্জামানরা। কিন্তু জিয়াউর রহমান নিজের সমর্থনপুষ্ট খুনিদের সেনানিবাসে ফিরিয়ে আনার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশনে যাওয়ার ব্যাপারেও দ্বিমত পোষণ করেন জিয়া। সেনাপ্রধানকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে,পরবর্তীতে নিজেরাই কিছু একটা করার চেষ্টা করেন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।
তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর মধ্যরাতে তথা ৩ নভেম্বর সেনাপ্রধান জিয়াকে গৃহবন্দি করে বঙ্গভবন ঘেরাও করেন খালেদ মোশাররফ, শাফায়াত জামিল, এটিএম হায়দার ও হুদার অনুগত সেনা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যরা। তাদের চাপের মুখে পরের দিন দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধু হত্যার মদতদাতা ও স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের নির্দেশে: বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দিয়েই অতি গোপনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান ও এইচএম মনসুর আলীকে। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা দেশ ছাড়ার পর এই তথ্য জানতে পেরে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন অভ্যুত্থানকারী সেনা অফিসাররা।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের নির্মমভাবে হত্যার পর কক্ষচ্যুত হয়ে যাওয়া, টালমাটাল রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনার উপায় খুঁজছিলেন অভ্যুত্থানকারীরা। ঠিক একই সময় ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে যাচ্ছিল গৃহবন্দি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। সমাজতন্ত্রের স্বপ্নে মত্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহেরকে ব্যবহার করে সে। তাহের তার বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যদের মাধ্যমে উস্কানিমূলক লিফলেট বিতরণ করান সেনানিবাসে। সাধারণ সৈনিকদের ক্ষেপিয়ে তোলা হয় অফিসারদের বিরুদ্ধে। চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে সেনানিবাসে। চারপাশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। পাকিস্তানফেরত সৈনিকরা মেতে ওঠে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে।
প্রাথমিকভাবে নিজেকে মুক্ত করতে তাহেরের সাহায্য নিলেও, পরবর্তীতে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করার পর নিজের আসল রূপ দেখায় জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের বীর অধিনায়কদের হত্যার পর, ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে তাহেরকেও মৃত্যুদণ্ড দেয় সে। সেনানিবাসে বিশৃঙ্খলার পুরো দায় চাপিয়ে দেয় তাহেরের ওপর। সেনানিবাসে যেহেতু রাজনীতি নিষিদ্ধ, তাই উচ্ছাভিলাসি তাহেরকে বিপদে ফেলাটা খুব সহজ হয়ে যায় সুচতুর জিয়ার জন্য।
এই সবের মধ্য দিয়ে আজ এই বিএনপি নামক সন্ত্রাসী সংগঠনের উৎপত্তি। সুতরাং সময় এসেছে সকলে দেশের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত এবং রাজাকারের নবগঠিত দোষর এনসিপি নামক জেনজি’দের রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ হোন।