
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেছেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘ইতিহাস বিকৃতির জঘন্য মহোৎসব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সুজিত রায় নন্দী বলেন, “অত্যন্ত দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা দেখছি, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বঙ্গবন্ধুকে বারবার অসম্মান করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।” তিনি ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ ৮টি জাতীয় দিবস বাতিলের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধুর সঠিক ইতিহাস বাদ দেওয়া একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করার শামিল।
আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, “বাংলা, বাঙালি ও বঙ্গবন্ধু একটি অবিচ্ছেদ্য মহাকাব্য। মহাকাব্যের স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে মহাকাব্য চর্চা করা অসম্ভব। ৩২ নম্বরের বাড়ি পোড়ানো বা সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর মুরাল ও ম্যুরাল ধ্বংস করে বাঙালির হৃদয় থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা যাবে না। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের এক চিরন্তন সত্য; তাঁকে মুছে ফেলার চেষ্টা মানেই বাংলাদেশকে মুছে ফেলার চেষ্টা।”
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা নারী, শিশু ও সাধারণ রিকশাচালকদের গ্রেফতার করে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আসামি করা হয়েছে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর অপরাধে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করে প্রতিহিংসার নিকৃষ্টতম উদাহরণ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে সুজিত রায় নন্দী বলেন, টুঙ্গিপাড়ার মাটি ও মানুষের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর যে নাড়ির টান ছিল, তাই তাঁকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০-এর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির অবিসংবাদী নেতা হয়ে উঠেছিলেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের ১৪টি বছর পাকিস্তানি কারাগারে কাটিয়েছেন এবং দু’বার ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও আপস করেননি। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকেই তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সংগ্রামী এই নেতা সুজিত রায় নন্দী তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তিতে বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। ব্যক্তি মুজিবকে স্তব্ধ করা গেলেও তাঁর চেতনা বাঙালির হৃদয়ে চিরঞ্জীব। আজকের এই দিনে আমাদের শপথ হোক—ভালবাসা দিয়েই মানুষের মন জয় করা, যা হবে জাতির পিতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”
মোঃ ফকরুল ইসলাম
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়
Joy Bangla Brigade
Michigan USA 17-03-2026

