১৯৭১-এর অগ্নিঝরা মার্চ: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও বাঙালির বিজয়গাথা

বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণের মাস মার্চ। ১৯৭১ সালের এই মাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক নেতৃত্বে সূচিত হয়েছিল এক অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন, যা পর্যায়ক্রমে রূপ নেয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বঙ্গবন্ধুর আপসহীন নেতৃত্বকে উপজীব্য করে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর উদ্যোগে এক বিশেষ ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​আলোচনায় উঠে আসে কীভাবে ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর পাকিস্তানি জান্তারা যখন ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে, তখনই ১ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু কার্যত এ দেশের শাসনের ভার নিজের হাতে তুলে নেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি হয়ে ওঠে বিকল্প রাষ্ট্রপ্রধানের সদর দপ্তর। কেবল সেনানিবাস ছাড়া পুরো দেশ তখন চলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায়।

​৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তির প্রধান দলিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সেই বিশাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার যে ডাক দিয়েছিলেন, তা-ই ছিল মূলত স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষণা। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো থেকে শুরু করে নেলসন ম্যান্ডেলা পর্যন্ত বিশ্বনেতারা এই ভাষণকে ‘স্বাধীনতার মূল দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

​২৫শে মার্চ কালরাতে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, বঙ্গবন্ধু তখনই বিশেষ ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বিশ্ববিখ্যাত পত্রিকাগুলোতেও তখন গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়েছিল যে, শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন ঘোষণা করেছেন। এরপর শুরু হয় ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, যার মূলে ছিল বঙ্গবন্ধুর নাম ও তাঁর আদর্শ।ঐতিহাসিক এই মাসটিকে স্মরণ করতে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম প্ল্যাটফর্মে এক ভার্চ্যুয়াল বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম (এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রধান, জয় বাংলা ব্রিগেড) প্রধান অতিথি: ড. রাব্বি আলম পিএইচডি (প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জয় বাংলা ব্রিগেড),বিশেষ অতিথি: এম কবিরুল ইসলাম আকাশ (মুখপাত্র),মোঃ হাফিজুর রহমান ইকবাল (জয় বাংলা ব্রিগেড জনপ্রতিনিধি সাধারণ সম্পাদক),মোঃ ফকরুল ইসলাম (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক),মোঃ রুহুল আমিন (দপ্তর সম্পাদক) ও নমিতা খান (নারী ব্রিগেড প্রধান) সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন,বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই প্রজ্ঞাবান নেতা যার একটি ভুলের কারণে বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে পারত। কিন্তু তাঁর বিচক্ষণতায় আমরা আজ স্বাধীন জাতি। জয় বাংলা ব্রিগেডের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

মোঃ ফকরুল ইসলাম

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক

জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়

Joy Bangla Brigade

Michigan USA 04-03-2026

Please follow and like us:
Pin Share