এক জীবনে শেখ হাসিনার ওপর যে পরিমাণ অবিচার,নির্যাতন,ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হয়েছে, সেগুলো কি আজ হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে গেছে?নাকি ইতিহাস ভুলে যাওয়াটাই এখন তথাকথিত সুশীলতার শর্ত?

এক জীবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর যে পরিমাণ অবিচার, নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হয়েছে,সেগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো

★শুধুমাত্র বিএনপি–জামাত জোট সরকারের আমলে, ২০০১ থেকে ২০০৬-এই পাঁচ বছরে শেখ হাসিনাকে কমপক্ষে সতেরোবার হ*ত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এটি কোনো দলীয় অভিযোগ নয়, এটি নথিভুক্ত বাস্তবতা। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী-তাঁর ও তাঁর বোন শেখ রেহেনার জন্য নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।★সায়েদাবাদে শেখ হাসিনার গাড়িবহর লক্ষ্য করে গু*লি চালানো হয়। একই দিনে সাতক্ষীরা থেকে ফেরার পথে আবারও তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গু*লি করা হয়। সেই হামলায় ঘটনাস্থলেই একজন নিরীহ পথচারী নিহত হন। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষোভে ফেটে পড়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি যখন শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে,তখন সংসদ ভবনের গেটে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ হাসতে হাসতে বলেছিলেন,“শেখ হাসিনা নাকি জনগণের নেত্রী। যদি তাই হয়, জনগণই শেখ হাসিনার নিরাপত্তা দেবে।” ★এটা কোনো বক্তব্য ছিল না।এটা ছিল রাষ্ট্রের মুখোশ খুলে পড়া এক নিষ্ঠুর হাসি। ★এরপর আসে একুশে আগস্ট। শেখ হাসিনার চোখের সামনে ২৬ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে গ্রে*নেড ছুড়ে হ*ত্যা করা হয়। আল্লাহর অসীম রহমতে তিনি সেদিন বেঁচে গেলেও তাঁর শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত সেদিন বলেছিলেন,“শেখ হাসিনার একটি কান প্রায় আশি শতাংশ ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে।” ★এই ভয়াবহতার পরও যারা মিথ্যা আর নির্লজ্জতার আশ্রয় নিয়েছিল, ইতিহাস তাদের নাম মনে রেখেছে। বিএনপির থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ একুশে আগস্টের পর এন টিভিতে স্পিচ দিতে গিয়ে বলেছিলেন,“সরকার আজ যে অপকর্ম করলো, তার জন্য এদের চড়া মূল্য দিতে হবে।” ★জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যখন তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছিল,যখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন আইভী রহমান,যখন জিল্লুর রহমান তাঁর স্ত্রী ও নেতাকর্মীদের চিন্তায় প্রায় পাগলপ্রায়,ঠিক তখন সংসদে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী বলেছিলেন,“হাসিনাকে কে মারতে যাবে? সে-ই নিজে ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রে*নেড নিয়ে গিয়ে নিজেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।” ★এই একটি বাক্যই প্রমাণ করে,সেই সময় রাষ্ট্র কতটা নৈতিকভাবে দেউলিয়া ছিল। ★২০০৪ সালের ৭ মে, গাজীপুর–২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি আহসানউল্লাহ মাস্টারকে ব্রা*শ*ফায়ারে হত্যা করা হয়। পরদিন গাজীপুরের বিক্ষোভ সমাবেশে মতিয়া চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী, সুরঞ্জিত সেন গুপ্তদের বহনকারী গাড়িকে শেখ হাসিনার গাড়ি ভেবে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি রোডে আবারও গু*লি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন আরও একজন পথচারী। ★শেখ হাসিনা তখন গাড়ি থামিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। মুহূর্তে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঢাকায়। সেখান থেকেই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ★ঠিক পরদিন, সেই কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে কারওয়ান বাজার মোড়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি তুলে দেয় ডিসি কোহিনূর মিয়া। ★গ্রেনেড হামলায় শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশে আবারও শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গু*লি ছোড়া হয়। সেদিনও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ★জোট সরকারের আমলের একটি একটি ঘটনা মনে করলে আজও শরীর হিম হয়ে আসে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের ওপর এমন কোনো অত্যাচার নেই,যা করা হয়নি। ★এই দেশ দেখেছিল এক অসহায় মাকে, যিনি তাঁর সন্তানের জীবন বাঁচাতে ধ*র্ষ*ক*দে-র উদ্দেশে বলেছিলেন,“বাবারা, আমার মেয়েটা অনেক ছোট। তোমরা একজন একজন করে এসো।”। ★এই সমাজ, এই রাষ্ট্র,সবকিছু তখন কী পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল, তা এই একটি বাক্যই যথেষ্ট। ★প্রতিহিংসার রাজনীতি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ শুরু করেনি। প্রতিহিংসার সূচনা করেছিল বিএনপি–জামাত জোট। হ*ত্যা, গ্রে*নে*ড, গু*লি আর রাষ্ট্রীয় মিথ্যাচার দিয়ে। ★আজ যদি বেগম জিয়ার মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনার দায় খোঁজা হয়, তাহলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ওপর চালানো এই দীর্ঘ, রক্তাক্ত, পরিকল্পিত অবিচারের দায়ও কাউকে না কাউকে নিতেই হবে।★আমি এসব কথা বলতে চাইছিলাম না। কিন্তু গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত কিছু তথাকথিত “সুশীল” যেভাবে ইতিহাস ধুয়ে মুছে নতুন ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, তাতে চুপ থাকা মানে অপরাধে শরিক হওয়া। ★আমি মাত্র কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেছি। বিএনপি-জামাতের পাঁচ বছরের ইতিহাস  নিয়ে লিখতে গেলে কয়েক মাস কেটে যাবে।  ★আমরা সেই সব অন্ধকার দিন ভুলে যাইনি। ভুলবোও না। কারণ মাত্র পাঁচ বছরে তখনকার সরকার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জীবন নরক বানিয়ে দিয়েছিল। ★রাজনীতিতে ভুল সবারই আছে। কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু ব্যক্তি স্বার্থে এবং আবেগের বশবর্তী হয়ে বিএনপি–জামাতের পাঁচ বছরের শাসনামলকে (২০০১–২০০৬) ইচ্ছাকৃতভাবে স্কিপ করে কাউকে ভিলেন আর কাউকে মহান বানানো যাবে না।★ইতিহাস সিলেক্টিভ না। ইতিহাস সুবিধামতো কাটা–ছেঁড়া করার বিষয় নয়। জানলে আংশিক নয়,পুরোপুরি জানতে হবে। ★শুধু সুবিধাজনক সময় বেছে নিয়ে কাউকে মহান বানানো আর কাউকে দানব বানানো এটা রাজনীতি নয়, এটা ভণ্ডামি।

মোঃ ফকরুল ইসলাম 

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক 

জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয় 

Joy Bangla Brigade 

Michigan USA 23-01-2026

Please follow and like us:
Pin Share