বাঙালির আত্মপরিচয়ের বাতিঘর বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস

মোঃ ফকরুল ইসলাম,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বাঙালির আত্মবিশ্বাসের দিন।আত্ম পরিচয়ের স্বাধীনতায় বিভোর হবার দিন।

যিনি এই দিনটিকে সমগ্র বাঙালির জীবনে সত্য করে তুলেছিলেন তিনি আর কেউ নন সমগ্র  ভারত উপমহাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।তার প্রতি জানাই সহস্রাধিক শ্রদ্ধা।

বাঙালির জীবনে তিনি না এলে অর্ধ পেট খেয়ে মরতে হতো। বাঙালির জীবনে তিনি না এলে দ্বিতীয় তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে জীবন যাপন করতে হতো।অতুলপ্রসাদ সেন যেভাবে বলেছেন কি জাদু বাংলা গানে’ গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে। গেয়ে গান নাচে বাউল,গান গেয়ে ধান কাটে চাষা। আহ কি যে মধুর, ঠান্ডা, একান্তই বাঙালির, আপনার জীবন যাপন সেটা সত্য হয়ে উঠতো না।

২০২৪ সাল থেকে অত্যাবধি অর্থাৎ গত ১৮ মাস বাঙালির  অর্জিত স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে নানা তর্কবিতর্কের মধ্য দিয়ে যা দাঁড়ালো তা আগামী প্রজন্মকে ভেবেচিন্তে প্রস্তুত হতে হবে।

যেমন – সম্প্রতি মেজর হাফিজুর রহমানকে বলতে শুনলাম, বাংলাদেশ রচনায় বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকার করা যাবে না, তার নামে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।আবার পরক্ষণেই তিনি বলছেন,  তিনি বাংলাদেশ সৃষ্টির স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যেতে পারেননি, মেজর জিয়াউর রহমান তার পক্ষ হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এটাই নাকি সত্য।

বাহ্ মেজর হাফিজুর রহমান গত ১৮ মাসে আপনাদের এটুকু উন্নতি হয়েছে যে, সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামানোর জন্য রেজওয়ানা হাসানের যে দৌড় ঝাঁপ সেখানে মেজর জিয়াউর রহমানের ছবি তুলে দিতে পারলেন না। কেন? কারণ রেজওয়ানা হাসানরা চায় জাতির কায়দে আজম জিন্নাহর ছবি টানাতে আর ঘোষক হিসেবে গোলাম আযমকে  স্বীকৃতি দিতে।তাহলে তো জিয়াউর রহমানের কোন অস্তিত্বই থাকে না,তাই না?

অতএব আবার সেই পুরনো কাসুন্দি বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক, জাতির পিতা, তার সৃষ্ট সংবিধান এইটাকে তো আর অবজ্ঞা করা গেল না। আচ্ছা  মেজর হাফিজুর রহমান  বলুনতো জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিলেন তাহলে পাকিস্তান কেন তাকে এরেস্ট  করে জেলে নিলেন না। আবার দেখুন দেশ যখন স্বাধীন হয়ে গেল তখন তো জিয়াউর রহমানের গলায় ধন্য ধন্য বলে ফুলেল শুভেচ্ছা পরানোর কথা, কারণ  জনগণ তখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে সেই ঘোষণা পাঠ করতে শুনেছেন। কিন্তু আমরা তো দেখলাম ভিন্ন দৃশ্য ! পাকিস্তান থেকে লন্ডন হিথ্র এয়ারপোর্ট, তারপর ভারত, তারপর  কলকাতা এয়ারপোর্ট, তারপর বাংলাদেশ  ঢাকা আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট সমস্ত দেশ জুড়ে এক অভিন্ন নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।কি অসাধারণ দৃশ্য!  কি অসাধারণ জয়ধ্বনি! 

                         স্বাধীন  জাতির, স্বাধীনতা নেতা 

                                শেখ মুজিব শেখ মুজিব।।

কোথায় জিয়াউর রহমান?

আবার দেখুন ২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু অ্যারেস্ট হলেন আর ওদিকে আমেরিকান মিডিয়ায় নিউজে দেখাচ্ছে  পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।কোথায় জিয়াউর রহমান? উনারা এই তথ্য পেলেন কোথা থেকে? কারণ ততক্ষণে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে তথ্যটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

আচ্ছা মেজর হাফিজুর রহমান আমাকে আরেকটা কথা বলুন,  স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের  ঘোষণা পাঠের পূর্বে কালুরঘাট থেকে এই একই ঘোষণা পাঠ করেন জনাব  এম এ হান্নান সাহেব। তাহলেতো ঘোষক হিসেবে প্রথম যিনি পাঠ করবেন তার নামটিই প্রথমে আসা উচিত, তাই নয়  কি? 

চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম এম এ হান্নান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখা হয়েছিল ২০০০ সালে।  আপনারা ক্ষমতায় এসে ২০০৫ সালে এর নাম পরিবর্তন করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করলেন কেন? আর ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিবর্তন করে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করলেন কেন?  কাজেই যা হবার তাই হয়েছে।মশাই ইতিহাস এগুলোই ইতিহাস আগামী প্রজন্ম গবেষণার মাধ্যমে তা বের করবেন।

ও আচ্ছা আরো আছে ! আপনারা তো ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ নামক, সরকারিভাবে প্রকাশিত ৩০ খন্ডের যে বই সেখানে কোন কোন খন্ডের অনেক তথ্যকে পরিবর্তন করে ছাপিয়ে ছিলেন কেন? জিয়াউর রহমান তো স্বাধীনতার ঘোষক, আপনাদের এই ঘোষক বলার ভাজে ভাজে থাকে তিনিই দেশটিকে স্বাধীন করেছেন। তাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করলেন কেন এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার হত্যাকারীদের দায়ী মুক্তি দিলেন কেন?,  মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকারদের নাগরিকত্ব দিলেন কেন?  সংবিধানের মূলনীতি পাল্টে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযুক্ত করলেন কেন?  বাঙালি জাতীয়তাবাদ অপসারণ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ অন্তর্ভুক্ত করলেন কেন?  ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন কেন? এবং সেই আলবদর দলকে নিবন্ধনেরও অনুমতি দিলেন কেন? 

দেখুন সেই দলটি আজ আপনাদেরই গিলে খেতে বসেছে (আওয়ামী লীগ  ও ভারত আপনাদের সহযোগিতা না করলে জামাত ক্ষমতায় যেত , মনে রাখবেন)। তাই বুঝি বঙ্গবন্ধুর গড়া সংবিধানের এত গুরুত্ব। তাই বুঝি  সংবিধানকে গুরুত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি পুন:স্থাপন। আপনাদের এই চৈতন্যদয়কে স্যালুট করি।তবে এই ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে আপনারা ৫৪ বছর ধরে যে কাসুন্দি ঘেঁটে চলেছেন সেটা থামালে  আরো ভালো  হবে।আমরা চাই আপনারা  সত্যের ওপর দাঁড়ান বলুন মেজর জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সেক্টর কমান্ড। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটির দ্বিতীয় পাঠক।ব্যাস দেখুন আপনাদের দলের চাকচিক্যই পরিবর্তন হয়ে যাবে। অন্য একটা স্পিরিট কাজ করবে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে।

সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

স্বাধীন জাতির,স্বাধীন পিতা 

শেখ মুজিব শেখ মুজিব॥

তোমার প্রতি আবারও সশ্রদ্ধ স্যালুট।

জয় বাংলা ! জয় বঙ্গবন্ধু।

মেজর নমিতা খান,জয় বাংলা নারী ব্রিগেড প্রধান।

Joy Bangla Brigade 

Michigan USA 08-03-2026

Please follow and like us:
Pin Share