ইতিহাসের মহানায়ক-খোকা থেকে জাতির পিতা—আমাদের অন্তহীন অনুপ্রেরণা

আজ ১৭ই মার্চ। বাঙালির হৃদস্পন্দন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২০ সালের এই দিনে টুঙ্গিপাড়ার নিভৃত পল্লীতে যে ‘খোকা’র জন্ম হয়েছিল, তিনিই কালক্রমে হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহানায়ক।

​আজকের এই দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় সন্ধানের মাহেন্দ্রক্ষণ। একইসাথে দিনটি ‘জাতীয় শিশু দিবস’, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর সেই অগাধ বাৎসল্য ও আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা।

বঙ্গবন্ধুর জীবন মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন শোষিতের পক্ষে সোচ্চার। ১৯৪৮-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৫২-এর একুশে, ‘৬৬-এর বাঙালির মুক্তি সনদ ছয় দফা, আর ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি বাঁকেই তিনি ছিলেন আপসহীন।

​১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ১৮ মিনিটের ভাষণ ছিল বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার মন্ত্র। তাঁর সেই বজ্রকণ্ঠ—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—আজও সাত কোটি থেকে সতেরো কোটি বাঙালির ধমনীতে রক্তস্রোত বইয়ে দেয়।

​এক নজরে ইতিহাসের অমর অধ্যায়

সাল           ঐতিহাসিক গুরুত্ব

১৯২০        ১৭ই মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় মহানায়কের জন্ম।

১৯৪৮        রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন ও ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব।

১৯৬৬        বাঙালির মুক্তির সনদ ‘ছয় দফা’ পেশ।

১৯৬৯        ছাত্র-জনতা কর্তৃক প্রাণের নেতাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত।

১৯৭১        ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ।

১৯৭২        ১০ই জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

১৯৭৫        ১৫ই আগস্ট সপরিবারে ইতিহাসের বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ড।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমান সরকার এই মহান নেতার জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালনে রাষ্ট্রীয় কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ব্যক্তিকে হত্যা করা যায়, আদর্শকে নয়। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই আজ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—অনলাইনে এবং অফলাইনে—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের লক্ষ-কোটি নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করছেন এই দিনটি।

ঘাতকের বুলেট বঙ্গবন্ধুকে কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু তাঁর ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন আজও আমাদের প্রতিটি কর্মীর হৃদয়ে অম্লান। বর্তমানের এই প্রতিকূল সময়ে বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও সাহসই আমাদের পাথেয়। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

“আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসা, আর আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আমি তাদের খুব বেশি ভালোবাসি।” — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

জাতির পিতার ১০৬তম জন্মবার্ষিকীতে জয় বাংলা ব্রিগেডের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা। রক্ত দিয়ে যে ঋণ তিনি শোধ করে গেছেন, আমরা আমাদের কর্ম ও আদর্শ দিয়ে সেই ঋণের অমর্যাদা হতে দেব না।

জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!

মোঃ ফকরুল ইসলাম

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক

জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয় 

Joy Bangla Brigade 

Michigan USA 17-03-2026

Please follow and like us:
Pin Share