এই কবিতাটি মূলত প্রতিবাদের নামে হওয়া অশ্লীলতা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ প্রতিবাদ। আমি এখানে সামাজিক বা রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে ব্যবহৃত কুরুচিপূর্ণ ভাষা ও আচরণের নিন্দা জানাচ্ছি।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থল বা স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র স্থানে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান বা চিৎকারকে আমি ‘অশালীন’ হিসেবে অভিহিত করেছি। আমি মনে করি, যেখানে সাম্যের কবি ঘুমান, সেখানে নোংরামি মানায় না। আমার মতে, বিপ্লব মানেই অকথ্য গালিগালাজ বা ধূর্ততা নয়। কুরুচিপূর্ণ স্লোগান কখনো বিপ্লবের ভাষা হতে পারে না; বরং তা বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। নারীর সম্মানের লড়াইকে সমর্থন করেছি, তবে সেই প্রতিবাদের ভাষা হতে হবে হীরের মতো স্বচ্ছ ও ধারালো—অশ্লীলতায় ঢাকা নয়। কুরুচিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে কখনো ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। বাঙালি জাতিকে তাদের বিবেক জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলার শুদ্ধ সংস্কৃতি বজায় থাকুক এবং মহৎ ব্যক্তিদের পবিত্র স্মৃতিগুলো যেন অশালীনতার ছায়া থেকে মুক্ত থাকে। উপসংহার: কবিতাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দাবি আদায়ের লড়াই বা বিপ্লব যেন কোনোভাবেই আমাদের নৈতিকতা এবং হাজার বছরের শুদ্ধ সংস্কৃতিকে কলুষিত না করে।
মোঃ ফকরুল ইসলাম প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়
“মুখ ও মুখোশ” কবিতাটিতে সমাজে আদর্শ ও আচরণের মধ্যে যে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। এর মূল দিকগুলো হলো আমি লক্ষ্য করেছি যে, বাইরে থেকে ধার্মিক বা শালীন পোশাক (যেমন বোরখা বা মাথায় কাপড়) পরলেও অনেকের আচরণ ও ভাষায় উগ্রতা প্রকাশ পাচ্ছে। অর্থাৎ, পোশাকের আড়ালে প্রকৃত বিনয় হারিয়ে যাচ্ছে। আদর্শের দোহাই দিয়ে রাজপথে যে অশালীন ভাষা বা গালিগালাজ ব্যবহার করা হচ্ছে,তাকে সংস্কৃতির জন্য ‘বিষাক্ত’ বলে মনে হচ্ছে।প্রকৃত শালীনতা যেন আজ অন্ধকারের কোণে মুখ লুকিয়ে ফেলেছে। মানুষের আসল পরিচয় তার পোশাকে নয়, বরং তার কথা ও আচরণের মাধুর্যে প্রকাশ পায়। উগ্র উল্লাস বা অভদ্রতা কখনোই সুস্থ প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। আমি সমাজকে আহ্বান করছি আমরা যেন কণ্ঠের উগ্রতা পরিহার করি।বোরখাকে অসম্মান না করে বরং আচরণের শালীনতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার তাগিদ দিচ্ছি। সারসংক্ষেপ: বাহ্যিক আবরণের চেয়ে মানুষের অভ্যন্তরীণ রুচি ও কথার শালীনতাই যে শ্রেষ্ঠ—এটাই কবিতার মূল বার্তা।
মোঃ ফকরুল ইসলাম প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়
নাফ নদী এখন আর শুধু একটি সীমান্তরেখা নয় এটি পরিণত হয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার উন্মুক্ত মঞ্চে। আজ রোববার সকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নির্বিচারে ছোড়া গুলিতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় প্রাণ হারিয়েছে এক নিষ্পাপ বাংলাদেশি শিশু আফনান।
সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মিয়ানমারের দিক থেকে আসা গুলিতে নিহত হয় স্থানীয় জসিম উদ্দিনের কন্যা
আফনান (৭)। শিশুটির কোন অপরাধ ছিল না,কোন সীমান্ত লঙ্ঘন ছিল না। তবুও তাকে প্রান দিতে হলো এক প্রতিবেশী দেশের গোলার মুখে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) খোকন চন্দ্র রুদ্র স্বীকার করেছেন সীমান্তের ওপার থেকেই ছোড়া গুলিতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
এই ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। টেকনাফের মাটিতে এর আগেও ঝরেছে বাংলাদেশি রক্ত। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির গুলিতে নিহত হয়েছেন আমাদের বোন আফনান। একের পর এক প্রাণহানি প্রমাণ করে এটি একটি চলমান সীমান্ত আগ্রাসন।
গত ছয় মাস ধরে নাফ সীমান্তে গোলাগুলির কারণে টেকনাফ এলাকার হাজারো মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয়, নিজ ঘরেও নেই নিরাপত্তা। আজ এই অব্যাহত হত্যার বিচারের দাবিতে কক্সবাজারে রাস্তায় নেমেছে স্থানীয় মানুষ। এটি কোনো রাজনৈতিক নাটক নয় এটি বাঁচার আর্তনাদ, নিরাপত্তা ও মর্যাদার দাবি।
একটি শিশুর রক্তের দায় শুধু সীমান্তের ওপারের ট্রিগার-চাপা হাতেই নয়। এই আগ্রাসন বন্ধে যারা নীরব, ইতিহাস তাদেরও ক্ষমা করবেনা বলে মন্তব্য করে বলেছেন জয় বাংলা ব্রিগেড এর বিশেষ ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয় বাংলা ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি মেজর জেনারেল ড. রাব্বি আলম (পিএইচডি)। তিনি আরো বলেন এই হত্যার দায় দখলদার ইউনূস এর নিতে হবে ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সকল হত্যা ও প্রশাসনের উপর দমন পীড়ন মেনে নিবে না। সাধারণ জনসাধারণকে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত। এবং উক্ত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং সাধারণ জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন।
উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখপাত্র এম কবিরুল ইসলাম আকাশ, এড. কামরুল ইসলাম, মোঃ ফকরুল ইসলাম,রুহুল তালুকদার, নমিতা খান, জেব-উন-নিছা,আবু হাম্মাদ, শহিদ আকন ও ওমর ফারুক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এই কবিতাটি মূলত একটি বিদ্রোহী এবং প্রতিবাদী চেতনা থেকে লেখা। আমি সমাজের বর্তমান অস্থিরতা, রাজনৈতিক অবিচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। কবিতার মূল দিকগুলো হলো:
জাগরণের ডাক: আমি তরুণ প্রজন্ম, কৃষক এবং সাধারণ জনগণকে তাদের ঘুমন্ত দশা থেকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছি। অন্যায়ের যে “কারুকাজ” বা ষড়যন্ত্র তাদের ওপর চেপে বসেছে, তা ভেঙে ফেলার ডাক দিয়েছি।
বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র:
যাদের হাতে শাসনের ভার, তারা আজ জনগণের সাথে বেইমানি করছে (বিষাক্ত ফণা)। নিজের মানুষ যখন শত্রুর রূপ নেয় (বিভীষণ সাজে), তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আমি সাদা পোশাকের আড়ালে থাকা কালো হাত বা দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার কথা বলেছি।
অধিকার আদায়ের সংগ্রাম:
যে শক্তি মানুষের ক্ষুধার অন্ন কেড়ে নিয়েছে এবং বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, তাদের হাতে শিকল পরানোর এবং রাজপথে নেমে আন্দোলন করার কথা বলা হয়েছে।
নেতৃত্বের সমালোচনা: কবিতায় নির্দিষ্টভাবে “উপদেষ্টা ইউনুস”-এর কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি শোষকদের সাথে হাত মিলিয়েছেন, যা বিদ্রোহী হৃদয়ে আগ্নেয়গিরির মতো ক্ষোভের সৃষ্টি করছে।
বিপ্লবের সংকল্প: সবশেষে আমি এক অজেয় আশাবাদের কথা শুনিয়েছি। রক্ত দিয়ে হলেও সাম্য বা সমতার গান ফিরিয়ে আনার এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি।
এক কথায়: এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদী কবিতা, যেখানে শোষণের অবসান ঘটিয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের মুক্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জয় বাংলা ব্রিগেড মামলার ১৬ নং আসামী পঞ্চগড় নিবাসী আখতারুজ্জামান এর পিতা- এ,কে, এম, মজিবুর রহমান,সাং-মালিগাও,ডাকঘর-রাধানগর,থানা- আটোয়ারী,জেলা-পঞ্চগড় – হৃদক্রিয়া জনিত কারণে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আখতারুজ্জামান বর্তমানে কারাগারে বন্দি আছে,বাবার মৃত্যুতে আক্তারুজ্জামান এর প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হলে অবৈধ ইউনূস সরকারের কালো আইন তাকে প্যারোলে মুক্তি দেননি।
আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তার বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করার জন্য অনুরোধ করছি।
কবিতাটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রচিত একটি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে বীরের বেশে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসাকে এখানে অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মূল দিকগুলো হলো:
মুক্তির আনন্দ: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বঙ্গবন্ধুর আগমনে বাংলার দিগন্তে যেন এক নতুন সূর্য উদিত হয়েছে। তাঁর ফেরার মাধ্যমে বাঙালির নয় মাসের হাহাকার ও পরাধীনতার গ্লানি ঘুচে গেছে।
বিজয়ীর বেশে প্রত্যাবর্তন:
কারাগার ভেঙে বিজয়ী বীরের মতো তাঁর ফিরে আসাকে ‘বাবার কোলে ছেলের ফিরে আসা’র সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা জনগণের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। রেসকোর্স ময়দানে বিপুল জনসমুদ্র তাঁকে বরণ করে নিয়েছিল।
পূর্ণতা পেল স্বাধীনতা: আমার মতে, বঙ্গবন্ধুর আগমনেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে। তিনি বাঙালির হৃদয়ে হিমালয়সম ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে আছেন এবং জাতির দিশারী হিসেবে ‘ধ্রুবতারা’ হয়ে থাকবেন।
নতুন দেশ গড়ার অঙ্গীকার:
তাঁকে ঘিরেই আগামী দিনের নতুন দেশ গড়ার শপথ এবং সাধারণ মানুষের সকল দীর্ঘশ্বাস দূর হওয়ার প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে।
কবিতার মূল ভাব ও সারাংশঃ কবিতাটিতে মূলত শেখ হাসিনার প্রতি ভালোবাসা, তাঁর বর্তমান অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি আক্ষেপ এবং তাঁর ফিরে আসার আকুল প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিচ্ছেদ ও বর্তমান অবস্থা: আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে দেশের বর্তমান সময়টি মেঘাচ্ছন্ন বা বিষণ্ণ। চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর আপন মাটি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা অনেকটা নির্বাসনের মতো। সাহস ও অনুপ্রেরণা: এখানে তাক তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো সাহসী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে যে, সত্যের কখনো পরাজয় হয় না।
প্রত্যাবর্তনের আশা: কবিতার মূল সুর হলো ‘অপেক্ষা’। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, সকল অন্ধকার ও অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে তিনি আবারও বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ সম্পন্ন করবেন।সংক্ষেপে, এটি একটি রাজনৈতিক আনুগত্য ও গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করা কবিতা, যেখানে নেত্রীর ফিরে আসাকেই দেশের সকল সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখা হয়েছে।
১০ ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয় বাংলা ব্রিগেড এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সহ-সভাপতি মেজর জেনারেল ড. রাব্বি আলম পিএইচডি বলেন আজ ১০ই জানুয়ারি। বাঙালির জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭২ সালের এই দিনে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছিলেন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করলেও, বাঙালির পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের আনন্দ সেদিনই পূর্ণ হয়েছিল, যেদিন আমাদের নেতা বাংলার মাটিতে পা রেখেছিলেন।
অতীতের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত
বঙ্গবন্ধু যেদিন ফিরেছিলেন, সেদিন রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেছিলেন—”আমার জীবনের সাধ পূর্ণ হয়েছে, আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।” তিনি আমাদের জন্য একটি সংবিধান দিয়েছিলেন, দিয়েছিলেন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূলমন্ত্র। তিনি চেয়েছিলেন একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলা।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আমাদের অবস্থান
কিন্তু আজ অত্যন্ত পরিতাপের সাথে বলতে হয়, যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পার করেছি, সেই বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় এসেছে, তাতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জনম্যান্ডেট বা নির্বাচনের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অনির্বাচিত শাসন ব্যবস্থা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না।
আমাদের দাবিসমূহ ও প্রতিরোধের ডাক:
★গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা: বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ। তাই কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তিকে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যায় না। আমাদের দাবি—অতি দ্রুত একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
★সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা: দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। যেকোনো ধরনের দখলদারিত্ব বা একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের বিরুদ্ধে আমাদের রাজপথে সোচ্চার হতে হবে।
★জনগণের অধিকার আদায়: বর্তমানে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং প্রশাসনিক স্থবিরতায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। এই অস্থিতিশীল পরিবেশ থেকে উত্তরণের জন্য একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
★শপথ
আজকের এই দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে—বঙ্গবন্ধু যে গণতন্ত্র ও মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন, সেই স্বপ্নকে আমরা বৃথা যেতে দেব না। কোনো অপশক্তি বা অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না। আসুন, দল-মত নির্বিশেষে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে, শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হই।
১০ই জানুয়ারির চেতনা হোক আমাদের পাথেয়। সত্যের জয় হবেই ইনশাআল্লাহ।
৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক একটি দিন। এইদিনে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তিনি স্বদেশে ফেরেন তারও দুইদিন পর অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দিনটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বঙ্গবন্ধু’কে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেপ্তারের পর সুদীর্ঘ সময় বন্দী জীবনেই থাকতে হয়েছিল। তিনি ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তির স্বাদ পেয়েছিলেন। যে মুক্তির খবরে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পেরেছিলেন এ দেশের আপামর জনতা।
মার্কিন লেখক রবার্ট পেইনের বর্ণনায়– ২৫ মার্চ রাতে আপন আলয় থেকে গ্রেপ্তারের পর কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে টেনশনের অবরুদ্ধ ছ’টি দিন। তারপর স্থানান্তর ঢাকা থেকে করাচি। পরের দিন মিয়ানওয়ালি কারাগারে। চার মাস পরে লায়ালপুর কোর্টে আসামির কাঠগড়ায়। এভাবে জেলজীবনে পাকিস্তানের কারাগারেই কাটে মুক্তিযুদ্ধকালে জাতির জনকের পুরোটা সময়। কারাগারে দীর্ঘ সাড়ে নয় মাস বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে মৃত্যুর প্রচ্ছন্ন হুমকিতে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশ উল্লাসে মেতে ওঠে। কিন্তু তখনও শঙ্কা কাটেনি। কারণ যার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে তিনি তখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। ১৬ ডিসেম্বরের পর সরিয়ে নেওয়া হয় কারাগার থেকে দূরে আরো দুর্গম জায়গায়।
২৪ ডিসেম্বর একটি হেলিকপ্টারে বঙ্গবন্ধুকে রাওয়ালপিন্ডির অদূরে শিহালা পুলিশ একাডেমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো। বঙ্গবন্ধু তাকে প্রশ্ন করেন, তাকেও বন্দী করা হয়েছে কিনা।
জবাবে ভুট্টো বলেন, আমি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট।
বঙ্গবন্ধু তখন হেসে ভুট্টোকে বলেন‘কিভাবে তুমি প্রেসিডেন্ট হও,যেখানে তোমার চেয়ে নির্বাচনে আমি দ্বিগুণ আসন পেয়েছি?
তখন বঙ্গবন্ধু’কে ভুট্টো উত্তর দেন,তুমি যদি চাও তাহলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারো।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দৃঢ় কন্ঠে জবাব দিয়েছিলেন আমি চাই না তোমাদের প্রেসিডেন্ট হতে। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই।বঙ্গবন্ধুকে ভুট্টো জানান, এজন্য যাবতীয় ব্যবস্থা তিনি নেবেন,তবে তার জন্য কয়েকদিন সময় লাগবে।
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এসব আলোচনা ভুট্টো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপ করেন। যার নথি পাওয়া যায় পাকিস্তানের মার্কিন দূতাবাস থেকে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ এ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এক গোপন টেলিগ্রাম থেকে।টেলিগ্রামে বলা হয়, ‘মুজিব বাইরের জগত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।তিনি (শেখ মুজিব) হয়তো মনে করছিলেন,বড় একটি অংশে যুদ্ধ চলছে, হয়তো পূর্ব পাকিস্তানের একটি অংশ ভারত দখলে নিয়েছে।তবে তার কোনো ধারণাই ছিল না পাকিস্তানের কী করুণ পরাজয় ঘটেছে।এতে আরো বলা হয়,‘তার চারপাশের অবস্থার পরিবর্তনে বেশ অবাক মনে হচ্ছিল মুজিবকে। সেইসঙ্গে হতাশ হয়েছিলেন যখন জানতে পারেন ভারতীয় বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের সবটাই দখলে নিয়েছে। ভুট্টো আরও বলেন, কথোপকথনের সময় শেখ বার বার ভারতীয় দখল এবং আধিপত্যবাদের কথা বলছিলেন এবং তিনি তা মেনে নিবেননা বলেও জানান।”পরবর্তী কয়েক দিন কেটে যায় বাংলাদেশে ফিরে আসার ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ জানাতে। যেহেতু ৯০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি সেনা বাংলাদেশে যুদ্ধবন্দী, বঙ্গবন্ধুর দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হবে এটা প্রায় নিশ্চিতই ছিল।
লন্ডনে যাওয়ার আগে তাদের সৌজন্যে প্রেসিডেন্টের অতিথি ভবনে ভুট্টো নৈশভোজের আয়োজন করতে চান। ভুট্টো আসেন এবং কুশলাদি বিনিময়ের পর বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন।বঙ্গবন্ধু উত্তর দেন, ‘তুমি যদি আমাদের কথা শুনতে তবে রক্তপাত এড়ানো যেতো এবং পরবর্তীতে যা কিছু ঘটেছে তাও। কিন্তু তুমি নির্মম সশস্ত্র হামলা চালিয়েছ। দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে যে সম্পর্ক তা ছাড়া আর কিভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে তা আমি জানি না’।
ভুট্টো বারবার বঙ্গবন্ধুকে তার অনুরোধ পুনর্বিবেচনার কথা জানালে, বঙ্গবন্ধু বলেন বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পর তিনি এর উত্তর দেবেন।
তারপরেই ভুট্টো এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব রাখেন। তিনি জানান ইরানের শাহ পাকিস্তান সফরে আসছেন এবং তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে চান।এ কারণে বঙ্গবন্ধুর যাত্রা পরদিন সকাল পর্যন্ত পেছাতে পারে।
এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গবন্ধু ভুট্টোকে বলেন, রাতেই তাদের যাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং জানান ইরানের শাহের সঙ্গে দেখা করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আর যদি নির্ধারিত সময়ে লন্ডন যাত্রার ব্যবস্থা ভুট্টো না করতে পারেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তাদের কারাগারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে।
বঙ্গবন্ধুর ক্ষোভ বুঝতে পেরে ভুট্টো জানান, নৈশভোজের পরেই করাচি থেকে তাদের যাত্রার নির্দেশ দেওয়া হবে।
বঙ্গবন্ধুকে এরপর বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে ড.কামাল হোসেন। বঙ্গবন্ধুকে উড়োজাহাজ পর্যন্ত এগিয়ে দেন ভুট্টো। তাদের বলা হয়, যাত্রা সম্পর্কে এখনই কিছু জানানো হবে না, যখন লন্ডন থেকে ঘণ্টাখানেকের দূরত্বে থাকবে উড়োজাহাজ তখন ঘোষণা দেওয়া হবে। যখন তারা লন্ডনের কাছাকাছি পৌঁছাবেন, তখন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে একটি বার্তা পাঠানো হবে,সেই বার্তায় থাকবে বঙ্গবন্ধু সকাল সাতটার দিকে লন্ডনের হিথ্রো বিমান বন্দরে পৌঁছাবেন।
১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তিলাভের পর বঙ্গবন্ধু লন্ডন যান।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উড্রো উইলসনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘরোয়া বৈঠক করেন।
সেখানেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন।হোটেল ক্যারিজেসের লবিতে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, পাকিস্তানের কারাগারের কনডেম সেলে আমি যখন ফাঁসির জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তখন বাংলাদেশের জনগণ আমাকে তাদের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছে। আমি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমাদের সমর্থন দেয়া সব রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্বাধীনতাকামী জনগণ যারা আমাদের সমর্থন জানিয়েছেন তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।
এ সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। মনে রাখতে হবে, যে মানুষ মরতে প্রস্তুত তাকে কেউ মেরে ফেলতে পারে না।
তারপর দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় ফেরেন। জনতার ঢল নামে। বিমানবন্দর এলাকা লোকে লোকারণ্য। বিশাল জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বঙ্গবন্ধু,দীর্ঘ ভাষণে জাতিকে দেন দিক নির্দেশনা।
মানবাধিকার বলে বলে সবক দেওয়া পূর্বের সুশীল সমাজ এখন কোথায়?
দয়াকরে ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেকের চিঠিটা পড়ুন।
আমি মোঃ তরিকুল ইসলাম তারেক, প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লীগ।ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ (হাজতী নং ৩৯০৪৭/২৫,সেল বনফুল ৩/৮ থেকে বলছি—–
প্রিয় সহযোদ্ধাবৃন্ধ কারা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ন কারা আইন অমান্য করে গত ৩ জানুয়ারী ২০২৬ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাপলা, বনফুল ও সূর্যমুখী ভবনের প্রায় ১৮০০ থেকে ২০০০ জন হাজতীদের ২৪ ঘন্টা লকাপে রেখে বিভিন্ন ভাবে মানবতাবিরোধী অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। সেটা সম্পূর্ণ কারা আইন বহির্ভূত অমানবিক কাজ। ১৮০০ থেকে ২০০০ হাজতিদের কারা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত খাবার পানি ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রি থেকে বঞ্চিত করে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের সকলের কাছে আকুল আবেদন আমার এই বার্তাটি বাংলাদেশসহ সকল আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী সংস্থাকে অবগত করে আমার মত ২০০০ হাজিতীদের এই নির্মম অত্যাচার থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। ইতি আপনাদের সহযোদ্ধা মোঃতরিকুল ইসলাম তারেক। ০৭-০১-২০২৬ (চিঠি সংযুক্ত)
বিঃদ্রঃ আমার মনে হচ্ছে এই সন্ত্রাসী দখলবাজ ইউনূস পাকিস্তানের নির্দেশে আর একটি জেল হত্যার ঘটনা ঘটাবে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সাধারণ জনগণের উপর ভিতী সঞ্চার করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিশ্বেস করার পাঁয়তারা চলছে..!!
মোঃ ফকরুল ইসলাম প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জয় বাংলা ব্রিগেড কেন্দ্রীয়